হোম
ঢাকা

নাগরিক ভাবনা: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী,নাকি জনগণের প্রভু?

অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের গণতন্ত্রে আমলাতন্ত্রের আধিপত্য ও জনপ্রতিনিধিত্বের অসহায়ত্ব বাংলাদেশের সরকারি আমলারা রাষ্ট্রীয় পরিভাষায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং জনগণের সেবক। অথচ বাস্তব চিত্র যেন সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের অনেকের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে এমন একটি মানসিকতার প্রকাশ ঘটে, যেন তারাই রাষ্ট্রের মালিক, আর সাধারণ জনগণ তাদের অনুগ্রহপ্রার্থী। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের একটি অংশই যেন ভুলে গেছেন যে, রাষ্ট্র তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং জনগণ তাদের অধীনস্থ প্রজা নয়।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। গণতন্ত্রের মূল দর্শন হচ্ছে – রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণ করবেন এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সেই নীতি ও আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং সরকারি কর্মচারীরা আইন, বিধিবিধান ও সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই স্বাভাবিক ব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অস্বাভাবিক ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আড়ালে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব।

জনপ্রতিনিধি আছেন, কিন্তু ক্ষমতা কোথায়?
বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদে গণতন্ত্র, প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি স্বীকৃত হয়েছে। অথচ বাস্তবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা ও কার্যকর কর্তৃত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান রয়েছেন, জেলা পরিষদেও নির্বাচিত নেতৃত্বের ব্যবস্থা রয়েছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় রয়েছেন নির্বাচিত মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছেন নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। কিন্তু তাদের অনেকেরই বাস্তব ক্ষমতা, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত সীমিত।
বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অবস্থার দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে অথবা আইন নির্ধারিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি। অথচ তাদের অধীনস্থ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব অনেক ক্ষেত্রেই বেশি দৃশ্যমান। ফলে জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় নামমাত্র পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও বাস্তবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকে না বললেই চলে। এ যেন এক অদ্ভুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা – জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন, কিন্তু তার হাতে কার্যকর ক্ষমতা নেই; অন্যদিকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নন, এমন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতেই রয়েছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা।

সাংসদ, মন্ত্রী ও আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার সমীকরণ এই সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যকার ক্ষমতার সম্পর্ক।
সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি। তাদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারকে তারা নিজেদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরাও নিজ নিজ এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। ফলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ বা প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এখানেই আমলাতন্ত্রের জন্য একটি বিশেষ সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। একজন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পর্ক অনেক সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কিন্তু একজন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান বা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পর্ক আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকার কথা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা জেলা প্রশাসক (ডিসি) নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত, মতামত কিংবা সুপারিশ উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগও ওঠে।
অবশ্য সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীরও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে হুকুম দেওয়ার সীমাহীন ক্ষমতা নেই। তাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা সংবিধান ও আইন দ্বারা নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার নৈকট্য এবং প্রশাসনিক আনুগত্যের সমীকরণ অনেক সময় আইনসম্মত ক্ষমতার সীমারেখাকেও অস্পষ্ট করে তোলে। ফলে জনপ্রতিনিধিত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং প্রশাসন জনগণের পরিবর্তে ক্ষমতাবান মহলের প্রতি অধিক মনোযোগী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।

আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধির ঐতিহাসিক পটভূমি বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের অস্বাভাবিক ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির পেছনে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান এবং অগণতান্ত্রিক শাসনামলে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে সামরিক শাসকরা নিজেদের শাসনকে স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য করার প্রয়োজনে প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
সামরিক শাসনামলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তাদের ক্ষমতা, পদমর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়। এর ফলে একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যার প্রভাব পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলেও পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দেয় – যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সামরিক শাসনের সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শাসন পরিচালিত হয়েছে, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা কতটা সহজ? দুর্ভাগ্যজনকভাবে, নির্বাচিত সরকারগুলোও অনেক সময় প্রশাসনিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার না করে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করেছে। ফলে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক ক্ষমতার সংস্কৃতি ও মানসিকতার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটেনি।

জনগণের সেবার পরিবর্তে ক্ষমতার প্রদর্শন আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ জনগণের ওপর। একজন নাগরিককে একটি সাধারণ নাগরিক সনদ, জমির নামজারি, জন্মনিবন্ধন, সরকারি ভাতা কিংবা অন্য কোনো সেবা পেতে গিয়ে কখনো কখনো একাধিক দপ্তরে ঘুরতে হয়। ফাইলের পর ফাইল আটকে থাকে, সিদ্ধান্ত পেতে অযথা বিলম্ব হয়, আর কোথাও কোথাও ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অথচ একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছে নাগরিক কোনো করুণাপ্রার্থী নন। তিনি রাষ্ট্রের মালিক জনগণেরই একজন সদস্য। সরকারি কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া তো দূরের কথা, তাকে যথাযথ সেবা প্রদান করতে আইনত ও নৈতিকভাবে বাধ্য। একজন ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক থেকে শুরু করে একজন ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক কিংবা সাধারণ চাকরিজীবী – সবারই প্রশাসনের কাছে সমান মর্যাদা ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো কোনো স্তরে এমন আচরণ দেখা যায়, যেন সরকারি দপ্তরে জনগণের প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ অনুগ্রহ এবং কর্মকর্তার সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জনগণের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জবাবদিহিতা ছাড়া ক্ষমতা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহিতা অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও সমানভাবে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মচারী নন, কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত কর্মচারীও নন। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তাদের আনুগত্য থাকতে হবে সংবিধান, প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্বের প্রতি। একজন কর্মকর্তা যদি ক্ষমতাবান ব্যক্তির অন্যায় নির্দেশ মানতে বাধ্য হন, কিন্তু সাধারণ নাগরিকের ন্যায্য আবেদন উপেক্ষা করেন, তাহলে সেটি আর জনমুখী প্রশাসন থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রশাসন। একইভাবে জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনের ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকা উচিত নয়। কারণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অর্থ একজনের স্বেচ্ছাচারিতার পরিবর্তে আরেকজনের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং প্রত্যেকের ক্ষমতাকে আইন ও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।

সমাধান কোথায়?
বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমলাতন্ত্র ও জনপ্রতিনিধিত্বের মধ্যে ক্ষমতার সাংবিধানিক ও আইনগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। প্রথমত, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন অনুযায়ী কার্যকর ক্ষমতা, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর বেআইনি নির্দেশ বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
তৃতীয়ত, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারি দপ্তরে ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নাগরিক যেন সহজেই জানতে পারেন, তার আবেদন কোথায় আটকে আছে এবং কোন কর্মকর্তা তার জন্য দায়ী।
পঞ্চমত, সরকারি কর্মকর্তাদের মনে এই বোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, তাদের পদমর্যাদা জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রদর্শনের জন্য নয়; বরং জনগণের সেবা করার দায়িত্ব পালনের জন্য।

শেষ কথা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো – আমরা গণতন্ত্র চাই, কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারিনি। আমরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করি, কিন্তু তাদের কার্যকর দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারি না। আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক বলি, কিন্তু তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হই।
মনে রাখতে হবে, একজন জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই হোন না কেন, তারা রাষ্ট্রের মালিক নন। একইভাবে একজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও আইনের ঊর্ধ্বে নন।
রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণ করবেন, আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা আইন অনুযায়ী সেই রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়তা করবেন – এটাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যবস্থা।

আমলারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণের সেবক: কোনোভাবেই জনগণের প্রভু নন
বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই চলবে না; পরিবর্তন করতে হবে ক্ষমতার সংস্কৃতি, প্রশাসনিক মানসিকতা এবং জবাবদিহিতার কাঠামো। অন্যথায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলেও জনগণের ওপর আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটবে না। গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন একজন সাধারণ নাগরিক রাষ্ট্রীয় দপ্তরে গিয়ে নিজেকে প্রজা নয়, রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত মালিক হিসেবে অনুভব করবেন।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীছ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

নাগরিক ভাবনা: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী,নাকি জনগণের প্রভু?
ঢাকা 18 minutes আগে

সিরাজগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, আ,লীগকে হুঁশিয়ারি এমপি
রাজশাহী 18 hours আগে

দিনাজপুরের খানসামায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা ও
জাতীয় 19 hours আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জাদুঘরে রংপুর বিভাগের ছয় জেলা প্রশাসক, রোপণ করলেন
রংপুর 1 day আগে

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ রাজারহাট থেকে অংশ
জাতীয় 1 day আগে

পঞ্চগড়ে প্রতারণার অভিযোগ দুই মহিলার নামে থানায় মামলা,জেল হাজতে প্রেরণ।
অপরাধ 1 day আগে

দিনাজপুরের দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাওয়ার সময় স্বামীর বাড়ির গেটে প্রথম
রংপুর 1 day আগে

সাভারে ডেঙ্গু আক্রান্তে প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নাদিম এর
ঢাকা 1 day আগে

ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন রংপুর বিভাগের ছয় জেলার
রংপুর 2 days আগে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শুরু হয়েছে কার্তিকের আমন ধান কাটা।
অর্থনীতি 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক