হোম
নাগরিক ভাবনা

নাগরিক ভাবনা: পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সেনেকা রকস ও কাস সিনিক রেলওয়ে।

অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

কিছু ভ্রমণ আছে, যা কেবল চোখকে আনন্দ দেয়; আর কিছু ভ্রমণ হৃদয়ের গভীরে এমন এক অনুভূতির জন্ম দেয়, যার রেশ বহুদিন পর্যন্ত থেকে যায়। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক এবং প্রিয়জনদের সান্নিধ্য – এই তিনের সম্মিলনে আমাদের পশ্চিম ভার্জিনিয়া ভ্রমণ হয়ে উঠেছে তেমনই এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার, আমাদের সন্তান সাগর আব্বু আমাদের নিয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত সেনেকা রকস এবং “কাস সিনিক রেলওয়েতে। দিনের শেষে মনে হয়েছে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আমরা যেন ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখেছি, আর পরিবারের ভালোবাসার বন্ধনকে নতুন করে অনুভব করেছি।

পশ্চিম ভার্জিনিয়া: পাহাড়ের রাজ্যে প্রকৃতির অপার ঐশ্বর্য
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পশ্চিম ভার্জিনিয়া যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক সবুজ ক্যানভাস। চারদিকে বিস্তৃত অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালা, ঘন বনভূমি, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, স্বচ্ছ জলধারা, উপত্যকা আর ছোট ছোট জনপদ – সব মিলিয়ে এই অঙ্গরাজ্যের রয়েছে এক স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। এর পরিচিতি “মাউন্টেন স্টেট” বা পর্বতময় অঙ্গরাজ্য হিসেবে। এখানে পাহাড় কেবল ভূপ্রকৃতির অংশ নয়; মানুষের জীবনযাত্রা, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য উপাদান।

যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৫ সালের জনসংখ্যার প্রাক্কলন অনুযায়ী, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ৬৬ হাজার। অঙ্গরাজ্যটির মোট আয়তন প্রায় ৬২ হাজার ৭৫৫ বর্গকিলোমিটার। ১৮৬৩ সালের ২০ জুন এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার বিশেষ আকর্ষণ হলো, এখানে প্রকৃতি ও ইতিহাস পাশাপাশি অবস্থান করছে। কোথাও পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন শিলাস্তরের বিস্ময়, কোথাও বনের ভেতর হারিয়ে যাওয়া পুরোনো রেলপথ, আবার কোথাও নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী জনপদ। সেনেকা রকস এবং কাস সিনিক রেলওয়ে – এই বৈচিত্র্যের দু’টি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সেনেকা রকস: পাথরের বুকে প্রকৃতির বিস্ময়কর শিল্পকর্ম
সেনেকা রকসের কাছে পৌঁছানোর আগেই পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। রাস্তার দুই পাশে ঘন গাছপালা, দূরে উঠে যাওয়া পাহাড়ের সারি, আর আকাশের নীলিমার সঙ্গে সবুজের মিতালি – প্রতিটি দৃশ্য যেন প্রকৃতির নিজস্ব ভাষায় লেখা কবিতা। পথের বাঁক ঘুরতেই যখন চোখের সামনে দৃশ্যমান হয় সেনেকা রকসের সুউচ্চ, খাড়া পাথুরে চূড়াগুলো, তখন মুহূর্তের জন্য মনে হয়, পৃথিবীর বুকে প্রকৃতি যেন নিজের শক্তি ও সৌন্দর্যের এক অনন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে।

সেনেকা রকস পশ্চিম ভার্জিনিয়ার অন্যতম পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন। এর শিলাস্তর আশপাশের বনভূমি থেকে প্রায় ৯০০ থেকে ১,০০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে উঠেছে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন, শিলার ভাঁজ এবং ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে এই বিস্ময়কর পাথুরে গঠন তৈরি হয়েছে। এখানকার শিলা মূলত টাসকারোরা বেলেপাথরজাতীয় শক্ত শিলা, যার গায়ে সময়ের দীর্ঘ ইতিহাস খোদাই হয়ে আছে।

পাহাড়ের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন পাথরকে ক্যানভাস বানিয়ে নিজের হাতে এক বিশাল ভাস্কর্য তৈরি করেছে। কোনো কোনো অংশে শিলার ধারালো রেখা আকাশের দিকে উঠে গেছে, আবার কোথাও পাথরের গায়ে আলো-ছায়ার খেলা দৃশ্যটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। সকালের কুয়াশা কিংবা বিকেলের আলোয় এই শিলাগুলোর চেহারা বদলে যায়; কখনো গম্ভীর, কখনো কোমল, কখনো বা রূপকথার কোনো দুর্গের মতো।

এখানে রয়েছে হাঁটার পথ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য পাথুরে পাহাড়ে আরোহণের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা চাইলে প্রায় ১.৩ মাইল দীর্ঘ একটি পথে উঠে নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণস্থল থেকে আশপাশের উপত্যকা ও পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্য দেখতে পারেন। সেনেকা রকসের বিশেষত্ব শুধু এর সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ – ৪৪ সালে এখানে মার্কিন সেনাদের পাহাড়ি যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, যে পাহাড় আজ প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের মুগ্ধ করে, একসময় সেই পাহাড়ই ছিল সামরিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

এই স্থানে দাঁড়িয়ে মানুষের মনে একটি গভীর উপলব্ধি জাগে – প্রকৃতি মানুষের সভ্যতার বহু আগের সাক্ষী। মানুষের উত্থান-পতন, যুদ্ধ, উন্নয়ন কিংবা পরিবর্তনের মধ্যেও পাহাড় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। তার অস্তিত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীকে ভালোবাসতে হলে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও নিতে হবে।

কাস সিনিক রেলওয়ে: বাষ্পীয় ইঞ্জিনে অতীতের পথে যাত্রা
সেনেকা রকসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পর আমাদের ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল “কাস সিনিক রেলওয়ে”। এটি কেবল পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে চলা একটি পর্যটকবাহী ট্রেন নয়; বরং পশ্চিম ভার্জিনিয়ার শিল্প-ইতিহাস, বনজ সম্পদ আহরণ এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রামের এক জীবন্ত স্মারক।
কাস নামের ছোট্ট ঐতিহাসিক জনপদটি ১৯০১ সালে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পাল্প অ্যান্ড পেপার কোম্পানির উদ্যোগে গড়ে ওঠে। আশপাশের পাহাড়ি বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে করাতকলে নিয়ে আসার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই রেলপথ। তখন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ভারী কাঠ পরিবহন করা ছিল কঠিন কাজ। বিশেষভাবে তৈরি শক্তিশালী শেই (Shay) বাষ্পীয় ইঞ্জিন খাড়া ঢাল ও আঁকাবাঁকা পথে কাঠ বহনের উপযোগী হওয়ায় এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সময়ের পরিবর্তনে কাঠশিল্পের অবনতি ঘটে। ১৯৬০ সালে এখানকার করাতকল ও রেলপথের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ইতিহাসের এই মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ এলাকাটি সংরক্ষণ করে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করে। ১৯৬৩ সালে এখানে পর্যটকদের নিয়ে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
আজ সেই পুরোনো রেলপথে চড়ে মানুষ পাহাড়ের গভীরে প্রবেশ করে। কয়লার ধোঁয়া, বাষ্পের শিস, ইঞ্জিনের ধাতব শব্দ আর রেললাইনের ছন্দ যেন এক শতাব্দী আগের পৃথিবীকে আবার ফিরিয়ে আনে। আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুতগতির জীবনে যেখানে সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন করার তাগিদ, সেখানে এই বাষ্পীয় ট্রেনের ধীরগতির যাত্রা মানুষকে শেখায় – কখনো কখনো ধীরে চলার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে থাকে।

কাস সিনিক রেলওয়ে এর অন্যতম আকর্ষণ বাল্ড নব (Bald Knob)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৮৪২ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থানটি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার তৃতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতাবিশিষ্ট শৃঙ্গ। এখানে যাওয়ার প্রধান পর্যটক রেলযাত্রাটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার যাতায়াতভিত্তিক অভিজ্ঞতা। পথে ঘন বনভূমি, পাহাড়ি ঢাল ও বিস্তৃত উপত্যকার দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
ট্রেনের প্রতিটি বাঁক যেন নতুন একটি দৃশ্যের দরজা খুলে দেয়। কখনো জানালার পাশে ঘন সবুজ বন, কখনো দূরে পরপর উঠে যাওয়া পাহাড়, আবার কখনো উপত্যকার গভীরে হারিয়ে যাওয়া সরু পথ। প্রকৃতির এই বিস্তৃত দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে মনে হয়, আমরা শুধু একটি গন্তব্যে যাচ্ছি না; বরং সময়ের স্রোত বেয়ে ফিরে যাচ্ছি সেই যুগে, যখন রেলপথ ছিল শিল্প ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি।

কাসের পুরোনো কোম্পানি টাউন, ঐতিহাসিক দোকানঘর, জাদুঘর এবং রেলশ্রমিকদের জীবনযাত্রার স্মৃতি এই ভ্রমণকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। এখানে বোঝা যায়, একটি রেলপথ কীভাবে একটি জনপদের জন্ম দিয়েছিল, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিল এবং একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল। পরে সেই একই রেলপথ কীভাবে ইতিহাস ও পর্যটনের সম্পদে পরিণত হয়েছে, তা-ও এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

খনিজ সম্পদ, বনভূমি ও অর্থনৈতিক ঐতিহ্য পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার। অঙ্গরাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরে কয়লা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস, চুনাপাথর, লবণসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ এখানকার অর্থনীতি ও শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিস্তৃত বনভূমি কাঠশিল্পের বিকাশেও সহায়তা করেছে। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ কেবল অর্থ উপার্জনের উপায় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশ, জনজীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ। কয়লা ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলন কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখলেও, সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে তা ভূমিক্ষয়, পানিদূষণ ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মতো প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অঙ্গরাজ্যটির বনভূমি, পাহাড়ি নদী, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক উদ্যানগুলো পর্যটনের জন্য বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। “সেনেকা রকস” এর মতো ভূতাত্ত্বিক বিস্ময় এবং “কাস সিনিক রেলওয়ে” এর মতো ঐতিহাসিক সম্পদ প্রমাণ করে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

প্রকৃতির পাঠ: সংরক্ষণই ভবিষ্যতের অঙ্গীকার সেনেকা রকস ও “কাস সিনিক রেলওয়ে” ভ্রমণের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, প্রকৃতি ও ইতিহাসকে অবহেলা করে কোনো সমাজের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাহাড়ের পাথর, বনের গাছ, নদীর পানি কিংবা পুরোনো রেললাইন – প্রতিটি সম্পদের রয়েছে নিজস্ব মূল্য। এগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে শুধু একটি দৃশ্য হারিয়ে যায় না; হারিয়ে যায় ইতিহাস, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জানার ও শেখার সুযোগ। প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানে শুধু ছবি তোলা নয়। এর অর্থ হলো নির্ধারিত পথে চলা, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। পাহাড়ে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিয়ম অনুসরণ করাও আমাদের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যও এই অভিজ্ঞতার রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। আমাদের দেশেও রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, সিলেটের সবুজ টিলা, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, হাওর, নদী ও চা-বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য। এসব প্রাকৃতিক সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে দেশীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটবে, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নতুন প্রজন্ম প্রকৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

ভ্রমণের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি: পরিবারের ভালোবাসা
পশ্চিম ভার্জিনিয়ার পাহাড়, পাথুরে চূড়া, বনভূমি ও ঐতিহাসিক রেলপথ আমাদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু এই ভ্রমণের সবচেয়ে মূল্যবান দিক শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের সন্তানদের স্নেহ ও ভালোবাসা। সাগর আব্বু ও নাফিসাহ মামনি আমাদের নিয়ে এই সুন্দর স্থানগুলো ঘুরে দেখিয়েছে – এটি আমাদের কাছে নিছক বেড়ানোর ব্যবস্থা নয়, বরং ভালোবাসার এক আন্তরিক প্রকাশ। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাবা-মা সন্তানের জন্য অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। সময়ের পরিক্রমায় সন্তানরা যখন বড় হয়, নিজের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং বাবা-মাকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেই ভালোবাসা যেন পূর্ণতার নতুন অর্থ খুঁজে পায়।

পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকা, একসঙ্গে পথ চলা, সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা কিংবা পুরোনো ট্রেনের শব্দ শোনা – এসব ছোট ছোট মুহূর্তই একসময় জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে ওঠে। অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সময়, আন্তরিকতা এবং পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা কোনো অর্থমূল্যে পরিমাপ করা যায় না। আজকের এই ভ্রমণ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, সুখ সব সময় বড় কোনো অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো একটি পাহাড়ি পথ, কখনো দূরের সবুজ বন, কখনো পুরোনো একটি ট্রেন, আবার কখনো সন্তানের পাশে বসে কাটানো কয়েকটি ঘণ্টাই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা: পশ্চিম ভার্জিনিয়া আমাদের সামনে প্রকৃতির এক অনন্য অধ্যায় উন্মোচন করেছে। “সেনেকা রকস” শিখিয়েছে পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস কত দীর্ঘ ও বিস্ময়কর; “কাস সিনিক রেলওয়ে” দেখিয়েছে কীভাবে শিল্প-ইতিহাসকে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবন্ত রাখা যায়। আর এই দু’টির মাঝখানে আমাদের পারিবারিক ভ্রমণ শিখিয়েছে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও একসঙ্গে সময় কাটানোর মূল্য। দিনের শেষে পাহাড় হয়তো তার নিজস্ব নীরবতায় ফিরে গেছে, বনভূমিতে সন্ধ্যা নেমেছে, আর ঐতিহাসিক রেলপথও থেমেছে দিনের যাত্রা শেষে। কিন্তু আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, ইতিহাসের গভীরতা এবং সন্তানের ভালোবাসায় সিক্ত কিছু অমূল্য স্মৃতি।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীছ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

নাগরিক ভাবনা: পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সেনেকা রকস ও কাস সিনিক রেলওয়ে।
নাগরিক ভাবনা 49 minutes আগে

দিনাজপুরে পুর্ণভবা নদীতে নৌকা ডুবে এক কৃষকের মৃত্যু।
দুর্ঘটনা 2 hours আগে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যান্ত্রিক মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করায় ইউএনওর অভিযান।
আইন-বিচার 2 hours আগে

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক,উদ্ধার ইয়াবা-হেরোইন।
অপরাধ 9 hours আগে

সিরাজগঞ্জে ১৭ বছরের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ।
জনদুর্ভোগ 10 hours আগে

দুই কৃতি সন্তানদের সম্বর্ধনা দিলো দিনাজপুর ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি।
রংপুর 1 day আগে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ৩ মাদকসেবীর কারাদণ্ড ও জরিমানা।
আইন-বিচার 2 days আগে

পঞ্চগড়ে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীসহ দুজনের মৃত্যু ।
অপরাধ 2 days আগে

পঞ্চগড়ে সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ ।
অপরাধ 2 days আগে

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৪২ বিজিবির অভিযানে ১৬৫ বোতল ভারতীয়
আইন-বিচার 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক