এনামুল হক,স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:২১ অপরাহ্ণ
রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁর সাপাহারে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে মৎস্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ পুকুরপাড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ পুকুরে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক ও টেকসই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য অফিসার শামীম রেজা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মনিরুজ্জামান টকি, বিআরডিবি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) এসএম নাজমুল হুদা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেনু) এবং সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোকছেদুল হক, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয় ও দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ, প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে পালিত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি,আধুনিক মৎস্যচাষে জনগণকে উৎসাহিত করা এবং মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পক্ষব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।