মনসুর আহমেদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ণ
তালাক দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ২য় স্বামীকে মারপিট করে গলাায় জুতার মালা পরিয়ে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১ম স্বামী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তৈবরের স্ত্রী কামরুন আকতার।
কামরুনের আভিযোগ, উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের আনারুলের সাথে তার বিয়ে হয়। সেখানে সংসার করা কালে ২ পুত্র সন্তানের মা হন তিনি। সংসারে বনিবনা না হওয়ায় ৭/৮ মাস আগে আনারুলকে তালাক দেন কামরুন। এরপর প্রায় ৫ মাস আগে নাকাটি শহিদ আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তৈবর রহমানকে বিয়ে করেন। আগের স্বামীর বড় ছেলে কাউসারকে (১৩) সাথে নিয়ে তৈবরের সাথে সংসার করছেন তিনি। ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ(৬) তার আগের স্বামীর বাড়িতে থাকে।
শনিবার সন্ধায় মোটর সাইকেল যোগে স্বামী তৈবর এবং বড় ছেলে কাউসারকে সাথে নিয়ে ছোট ছেলে আব্দুল্লাহকে দেখতে আগের স্বামী আনারুলের পটুয়াপাড়া বাড়িতে যান তারা। এ সময় আনারুল ও তার লোকজন কামরুন ও তৈবরকে আটক করে মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মারপিট করে এবং “ তৈবর এক মহিলার সাথে ধরা পড়েছে” এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে ঐ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এতে কামরুন এবং তার স্বামী তৈবর চরম ভাবে আপমানিত হয়েছেন এবং হচ্ছেন বলে দাবী করেন তিনি। তালাক প্রদান করায় ১ম স্বামী এমনটা করেছেন বলে জানান কামরুন। মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার সহ এর বিচার দাবী করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুনের মা বিলকিস বেগম, ভাই টিটু, স্বামী তৈবর, তৈবরের বোন সুলতানা, সুলতানার স্বামী কবাদ আলী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য গনমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক বলেন, খবর পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করি। এ বিষয়ে তারা আইনগত সহায়তা চাইলে করা হবে। এখন পর্যান্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি।