admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২১ ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সিলেটের কানাইঘাটে ভারত সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন গত বুধবার। কিন্তু গত দুই দিনেও তাদের লাশ উদ্ধারের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ফলে দুই দিন ধরে সীমান্তের একটি নালার পাশে পড়ে আছে সেই দুই হতভাগ্যের লাশ। বিজিবির সুরইঘাট ক্যাম্প ও কানাইঘাট থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এরালিগুল গ্রামের আসকর আলী ওরফে আছই (২৫) ও আরিফ মিয়া (২২) গত মঙ্গলবার রাতে ডোনা সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। এরপর তারা আর ফেরেননি।
পরদিন বুধবার সকালে কিছু লোক তাদেরকে জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওপারে বিএসএফের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। পরে মোবাইলে লাশের ছবি দেখে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বিজিবির স্থানীয় ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রথম দফায় পতাকা বৈঠক হয়। এরপর দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। যে স্থানে লাশ পড়ে আছে, সেটি সীমান্তের শূন্যরেখার (নো ম্যানস ল্যান্ড) কাছাকাছি। দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করে সেখানে এনে ফেলে রাখা হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়।
কিন্তু বিএসএফ হত্যার দায় অস্বীকার করে লাশ দুটো বাংলাদেশের ভেতরে রয়েছে বলে জানায়। এ জন্য পতাকা বৈঠক অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়েছে। সন্ধ্যায় বিজিবি ও বিএসএফ ডোনা সীমান্ত এলাকায় পাহারা বাড়ায়। এদিকে দুই দিনেও লাশ উদ্ধার না হওয়ায় সীমান্ত এলাকার আশপাশের এলাকার গ্রামগুলোর মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা দ্রুত লাশ উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। লক্ষীপ্রসাদ ইউপির চেয়ারম্যান ফয়াজ উদ্দিন জানান, বাংলাদেশের ভেতর থেকে লাশ দুটি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। অমানবিক এ দৃশ্যে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। তারপরও তারা চেষ্টা করছেন সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে।
আবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বৈঠকে লাশ দুটি যে স্থানে পড়ে আছে, সেই স্থান কোন দেশে পড়েছে তা চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়। লাশ ভারতের অভ্যন্তরে থাকলে সে দেশে ময়নাতদন্ত হবে। এরপর আরেক দফা পতাকা বৈঠক করে লাশ হস্তান্তর করা হবে। ফলে লাশ উদ্ধার ও হস্তান্তরে আরো সময় লাগতে পারে। কানাইঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, লাশ উদ্ধার হলে মানুষের ক্ষোভ কমবে। বিজিবি ও বিএসএফ যৌথভাবে লাশ উদ্ধারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করছি।