সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:০০ অপরাহ্ণ
গরু চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশকল (বাঁশের ব্যারিকেড ও চেকিং পয়েন্ট) স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় স্থাপিত বাঁশকলের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)। এ সময় তিনি বাঁশকলের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে টর্চলাইট ও বাঁশি বিতরণ করেন এবং দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বেলকুচি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বাঁশকল পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পুলিশ সূত্রে জানাযায়, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় গরু চুরি, ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে। এসব বাঁশকলের মাধ্যমে রাতের বেলায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশির মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে আরও জানাযায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ২৫০টি বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলকুচি উপজেলায় রয়েছে ১৪টি বাঁশকল। এসব বাঁশকলে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার বাঁশকলের দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাতে দায়িত্ব পালনে সতর্কতা অবলম্বন, পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রাখা ও সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের নিরাপত্তা এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তাঁদের হাতে টর্চলাইট ও বাঁশি তুলে দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি সার্কেলের এএসপি হুমায়ুন কবির, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তারুজ্জামানসহ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও বাঁশকলের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। পুলিশের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাতের বেলায় অপরাধীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে গবাদিপশু চুরির মতো অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাঁশকলের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা, পুলিশের নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।