সোহরাব আলী,তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
উত্তরাঞ্চলে চায়ের অভাবনীয় সাফল্য এবং গুণগত মান পর্যবেক্ষণে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দুটি চা কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।সোমবার ১২ অক্টোবর ২০২৬ দুপুরে তিনি উপজেলার বাংলা টি এবং বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করেন।
সফরের শুরুতেই চেয়ারম্যান বাংলা টি কারখানায় পৌঁছালে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি চা প্রক্রিয়াজাত করণ ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং কারখানার মালিক শাহ আলমসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে চায়ের মানোন্নয়ন ও সমসাময়ীয় বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন।
পরবর্তীতে তিনি আজিজনগরে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন। সেখানে কারখানার মালিক কাজী আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়াসহ অন্যান্য পরিচালকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এ সময় মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “চায়ের উৎপাদনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় দেশে সামগ্রিক উৎপাদন ১৭ শতাংশ বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে এই প্রবৃদ্ধির হার রেকর্ড ৪০ শতাংশ। ১৯৪৭ সালে দেশে উৎপাদন ছিল ১৮ মিলিয়ন কেজি, যা বর্তমানে শুধু পঞ্চগড় জেলাতেই দাঁড়িয়েছে ২৫ মিলিয়ন কেজিতে।
চায়ের গুণগত মান রক্ষায় গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানসম্মত চায়ের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কীটনাশকের
যথেচ্ছ ব্যবহার চায়ের মান নষ্ট করে। আমরা চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিটিআরআই) নির্দেশ দিয়েছি দ্রুততম সময়ে নিরাপদ ও জৈব উপায়ে পোকা দমনের গবেষণা জোরদার করতে। চাষিদের সার সংকট নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন,সমতলের চা চাষিদের জন্য সারের বিশেষ বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই চাষিরা তা হাতে পাবেন। এছাড়া চা শিল্পের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড.এ.কে.এম. রফিকুল হক এবং পরিচালক ইসমাইল হোসেনসহ চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চাকে বিশ্ব দরবারে আরও জনপ্রিয় করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।