মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
বগুড়ার আদমদীঘিতে সার অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছিল গুদাম ২৫ দিন পর খুলে দিল কর্তৃপক্ষ ফের সার বরাদ্দ, উঠছে নানা প্রশ্ন বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি রাসায়নিক সার পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছিল বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের গুদাম। কিন্তু ঘটনার ২৫ দিন পর গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সেই গুদাম খুলে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মিতভাবে সারের বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গুদামটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় খুলে দেওয়া হলো এ নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এর আগেও একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ডিলার লাইসেন্স বাতিলের ঘটনা থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা চলছে।
জানা যায়, গত ১৮ জুলাই সকালে আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের এক কৃষক শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সারবোঝাই দুটি ভুটভুটি দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, সারগুলো কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাট এলাকার বিএডিসি ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজ থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে নেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে জানানো হলেও প্রাথমিকভাবে সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবি করা হয়। পরে ডিলার এম.এ. কাসেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করেন বলে জানা যায়। অপরদিকে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন দাবি করেন, সারগুলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ না করেই সার পরিবহন করা হচ্ছিল। এরপর ১৯ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। এ সময় মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির সার গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।
গুদাম সিলগালার দুই দিন পর থেকেই সেটি খুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তদবির শুরু হয় বলে অভিযোগ। ডিলার প্রতিষ্ঠানের মালিকের মেয়ে সাদিয়া আফরিন কেয়া স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে সে সময় গুদাম খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অবশেষে ঘটনার প্রায় ২৫ দিন পর গত বৃহস্পতিবার সকালে সিলগালা করা গুদাম খুলে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও নিয়মিতভাবে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও সিলগালা করা একটি গুদাম কী প্রক্রিয়ায় পুনরায় খুলে দেওয়া হলো? একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগে ডিলার লাইসেন্স বাতিলের ঘটনা থাকলে বারবার অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ডিলারের বক্তব্য: মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম.এ. কাসেম বলেন, “প্রক্রিয়া অনুযায়ী সার গুদাম খুলে নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিক্রি শুরু হবে।”
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন,মুসলেকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বারবার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠাই। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না। সিলগালা করা গুদাম খোলার প্রক্রিয়া, আগের অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।