সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:০৮ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় ফুলঝোড় নদী ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালু হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিনে-রাতে অবাধে ড্রেজার বসিয়ে স্তুপাকৃত বালির সাথে কেটে নেওয়া হচ্ছে খাস ও ব্যাক্তিমালিকানাধীন জমিও। যোগাযোগ ব্যাবস্থার অপ্রতুলতা ও জনবল সংকটের দোহায় দিয়ে নিরব রয়েছে প্রশাসন।
অবৈধ এই বালু ব্যাবসার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মিদের মধ্যে, দেখা দিয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকাও। সরেজমিন জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় ঘুড়ে স্থানীয় জনসাধারন, বালু ব্যাবসায়ি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে জানা যায়, করতোয়া-ইছামতি-ফুলঝোড় নদী ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় খনন করা হয় ফুলঝোড় নদী। অন্যান্য স্থানের মতই নদী তিরবর্তী হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় পাশাপাশি দুটি স্থানে খাস ও ব্যাক্তিমালিকানাধিন জমিতে ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালু স্তুপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ি স্তুপাকৃত বালির একাংশ জমির মালিকদের জন্য বরাদ্দ দিয়ে বাকি অংশ নিলামে বিক্রি করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিলামে এই বালির মালিকানা লাভ করে ব্যাবসায়ি আবুল কালাম আযাদের মান ইঞ্জিনিয়ারিং।
নিলামে বালির মালিকানা লাভের পর বিক্রি শুরু হলে একটি চক্রের অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল কালাম আযাদের নিলাম বাতিল করার পাশাপাশি ফুলঝোড় ডিগ্রি কলেজের সামনে তার উত্তোলিত বালুর স্তুপও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ড্রেজিং ও ড্রেজিংজাত বালু ব্যাবস্থাপনায় গঠিত জেলা কমিটির এই সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি জানিয়ে পরবর্তীতে একটি আবেদনও করেন মান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক আবুল কালাম আযাদ।
কিন্তু আবুল কালাম আযাদের নিলাম বাতিল করার পর থেকেই অবাধে আলোকদিয়ার ঐ স্তুপ দুটি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালি কর্তন ও বিক্রি শুরু করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের জিলানী, আওয়ামীলীগ নেতা, আলোকদিয়া গ্রামের জাকির হোসেনসহ একটি চক্র। জমি ইজারাদার হিসেবে ড্রেংজিয়ের ঐ বালির একাংশের মালিকানা দাবি করলেও অসাধু এই চক্রটি নিলাম হওয়া বালি, খাসজমি ও স্থানীয় কৃষকদের মালিকানাভুক্ত জমিও কর্তন করে নিচ্ছে। গতকাল শনিবারও দিনভর লোড ড্রেজার, ভলগেট দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর করে বালি, জমি কর্তন করতে দেখা যায়।
এদিকে বালির সাথে কৃষকদের জমি ও খাস জমি কর্তন করে বালি বিক্রিতে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বাধার সৃষ্টি করেন সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় ব্যাবসায়ি মো: সামিদুল ইসলাম। দুই পক্ষের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনাও ঘটে কয়েক দফা। এ অবস্থায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ-যুবলীগ নেতা-কর্মিদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মিদের সংঘাতের আশংকা দেখা দিয়েছে।
তবে অবৈধভাবে ও নিয়ম অমান্য করে বালি উত্তোলন বন্ধে দেখা যায়নি কোন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: শাহিন রেজা বলেন, আলোকদিয়া থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।