admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
মাহী বলেছে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাই, অনেক কিছু বলার আছে। পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে ঢালিউড তারকা মাহিয়া মাহীর পুরনো একটি কথপোকথন ফাঁস নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ভিডিওবার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই অভিনেত্রী। এবার পবিত্র ওমরা পালনে স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবে থাকা মাহী দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া পোস্টে মাহী বলেছেন, সবার অভিভাবক, মমতাময়ী মায়ের (শেখ হাসিনা) সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের জন্য হলেও দেখা করতে চান তিনি, অনেক কিছু বলার আছে তাকে।
দেশে ফেরার পর এটিই হবে তার প্রথম ও একমাত্র চাওয়া, এই মনোবাসনা নিয়েই মক্কা ত্যাগ করবেন। এই চাওয়া ব্যর্থ হবে না বলে তার বিশ্বাস। এর আগে প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশের পর গতকাল সোমবার রাতে ফেসবুকে লাইভে এসেছিলেন মাহিয়া মাহী। এতে মক্কার হারাম শরিফে থাকায় ফোন ধরতে পারছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবাদত করতে এসেছি, সেটাই ঠিক মতো করতে চাই। সেদিন ভীষণ বিব্রত ছিলাম, নিজের আত্মসম্মানে কতটা আঘাত লেগেছে, তা আমি জানি আর আল্লাহ জানে।
এখন আরো একবার বিব্রত হলাম, নিজের ও দেশবাসীর কাছে ছোট হলাম। অশালীন ফোনালাপের ঘটনাটি দুই বছর আগের জানিয়ে মাহী বলেন, এ রকম ভাষা বা ব্যবহারের জবাব আমার কী দেয়ার ছিল, আপনারা ভেবে দেখবেন। তখন কিছু বলার মতো ভাষা ছিল না আমার। সেজন্য কোনো প্রতিবাদ করিনি, যেভাবে পেরেছি পাশ কাটিয়ে গেছি। বরাবরের মতো আল্লাহর কাছে বলেছি, কষ্ট পেয়েছি। যে কষ্ট দিয়েছে, তিনি ফল পেয়েছেন। এ বিষয়ে এখান থেকে কথা বলার মানসিকতা নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমি দোষী কিনা, তা নিজের অবস্থান থেকে চিন্তা করবেন আপনারা। আমাদের জন্য দোয়া করবেন, ওমরা যেন আল্লাহ কবুল করেন। আমার কোনো দোষ ছিল না, পরিস্থিতির শিকার ছিলাম।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে লেখা পদত্যাগপত্রটি এদিন দুপুরে জমা পড়েছে তার দপ্তরে। তার আগে ফেসবুকে দেয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আমার কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা চাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আমার জন্য শিরোধার্য।
সম্প্রতি সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম তুলে নেয়ার কথা বলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মুরাদ হাসান। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পরেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাতি জাইমা রহমানকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন।এ নিয়ে বিভিন্ন দল এবং সংগঠন থেকে তো বটেই, খোদ আওয়ামী লীগ থেকেই মুরাদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। পরে নিজ দলের নারী নেত্রীদের নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেন তিনি। এরমধ্যেই রোববার রাতে নায়িকা মাহীর সঙ্গে নোংরা ও অশ্লীল ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয় ডা. মুরাদের। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে।