admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২১ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
ভারতীয় অবৈধ অস্ত্রের বাজার বাংলাদেশ। প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম ভারতের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বড় বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য এদেশের অভ্যন্তরে অবৈধ অস্ত্র কারখানাও গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে নয়াদিল্লিকে বিস্তারিত জানিয়েছে ঢাকা। ডয়চে ভেলে জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গাবতলী থেকে ৫ জনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, ডিবি। তাদের কাছ থেকে ম্যাগাজিন ও গুলিসহ ৮টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদ করতে আটকদের নেয়া হয় রিমান্ডে।
জিজ্ঞাসাবাদে বাংলাদেশে ভারতীয় অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারে ডিবি। আটকদের ফোন দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এ সময় ভারতীয়রা গোয়েন্দাদের বলেন, যত অস্ত্র প্রয়োজন, ততই দেয়া যাবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ভারত থেকে ওয়েল ফার্নিসড আগ্নেয়াস্ত্র আসে বাংলাদেশে। এসব অস্ত্র কমপক্ষে ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। একটি চক্র ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় অবৈধ অস্ত্র আনছে এদেশে।
আটককৃতদের সবার বাড়ি যাশোরে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তাদের মধ্যে আকুল হোসেন নামে যশোর ছাত্রলীগের একজন নেতাও রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে যশোরের বোনাপোল সীমান্ত দিয়েই দেশে ভারতীয় অস্ত্র প্রবেশ করে। বোনাপোলের পুটখালী গ্রামের অপরদিকে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডে ৩ জন অস্ত্র ব্যবসায়ীর খোঁজ পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের অবৈধ কারখানা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠায় তারা।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় গ্রামে পলিথিন নিয়ে সুরক্ষিত করে খড়ের গাদা, মাটির গর্ত ও পুকুরে অস্ত্র রাখা হয়। পরে সুযোগ বুঝে সীমান্তে ক্ষেতে কাজ করতে যাওয়া লোকদের মাধ্যমে অস্ত্র পাঠানো হয়। তাদের কাছ থেকে অস্ত্রগুলো গ্রহণ করে একইভাবে সীমান্ত এলাকায় সংরক্ষণ করে দেশীয় কারবারিরা।
চাহিদা অনুযায়ী, সেই অস্ত্র যশোর ও খুলনা হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয় চোরাকারবারিরা। গ্রেপ্তার ৫ জন অস্ত্র বিক্রি করতে ঢাকায় গিয়েছিল। প্রাইভেটকারের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে তারা। এসব অস্ত্রের ক্রেতা মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, অবৈধ জমি দখলকারী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের সময় অস্ত্রের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।