admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২১ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
মোঃ মজিবর রহমান শেখ, জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়ন (ভূমি )কর্মকর্তা শ্রী খগেন্দ্র নাথ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম- দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। পদে পদে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের মো. সাকিব হোসেন, জগন্নাথপুর মৌজার আওতায় ৭৯৪৯ নং খতিয়ানে কলোনি সংলগ্ন এলাকায় ক্রয়কৃত জমির বকেয়া হাল সনের কর পরিশোধ করতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা খাজনা না নিয়ে উল্টো দূরব্যবহার করেন। তিনি বলেন, এই ভূমি কর্মকর্তা তার স্বাক্ষরে ঐ জমির খাজনা নিয়ে খারিজ বা নামজারি করে দিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি কেন ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ করছেন না বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ঐ ভূমি কর্মকর্তা ঘুষ দিলে সব কাজই করে দিতে পারেন। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভূমি সহকারি কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ দিয়েছি। কলোনি রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ঐ ভূমি কর্মকর্তা ঘুষ ছাড়া কিছুই বুঝেন না, তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা ভূমি অফিস, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে দেখতে পাই খারিজ বা নামজারি করতে ১ হাজার একশত ৭০ টাকা লাগে, অতিরিক্ত কোন টাকা লাগে না।
কিন্তু এই কর্মকর্তার কাছে ভূমির খারিজ নিতে দিতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। শহরের বসিরপাড়া মহল্লার দিপু বলেন খগেন্দ্র নাথ সরকারের মতো ঘুষখোর কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁও জেলায় কম আছে, এদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, আমার জমি খারিজ করতে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। একই কথা বলেন ,শান্তিনগর মহল্লার বাসিন্দা জুয়েল ইসলাম। দক্ষিণ সালন্দর আর কে স্টেট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার ফয়জুল ইসলাম বলেন, ভূমি কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ সরকার খারিজ দেয়ার নাম করে এক ব্যক্তির সাথে ৩০ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করেন। ইতো মধ্যে ১০ হাজার টাকা গ্রহণও করেছেন, বাকি ২০ হাজার টাকা কাজ শেষ হলে নিবেন, যার সত্যতাও পাওয়া যায়।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ সরকার বলেন অভিযোগের বিষয়টি সম্পূন্ন সত্য নয়, তবে টাকা নেয়ার বিষয়টিতে তিনি এড়িয়ে যান। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন সালন্দর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি দেখার জন্য কানুনগো সাহেবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।