admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২১ ৭:২৯ অপরাহ্ণ
ভারতের আসামে আর্তনাদ দোষ একটাই, আমরা মুসলমান। আসামের দরং জেলায় জোর করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বিশাল এলাকাজুড়ে। বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে-অর্ধাহারে বসবাস করছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। তারা বলছেন, সরকার উচ্ছেদের পক্ষে যে যুক্তিই দিক না কেন, আসল কথা হচ্ছে আমরা মুসলমান এবং এটাই আমাদের একমাত্র দোষ। মুসলিম বাসিন্দাদের করুণ অবস্থার কথা। গত কয়েক মাস ধরেই দফায় দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে। এক পর্যায়ে বাসিন্দারা বিক্ষোভ করলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।
এতে দুজন নিহত হন। কিন্তু রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে গুলি করার কথা স্বীকার করা হয়নি। প্রথমে বলা হয়েছিল, প্রাচীন একটি শিবমন্দিরকে অনেক বড় আকারে তৈরি করা হবে। আশপাশের বিশাল অঞ্চলজুড়ে থাকবে কমপ্লেক্স। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি করার পর সেই ভোল পাল্টে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। তারা এখন বলছে, ওই এলাকায় একটি কৃষি খামার গড়ে তুলবে আসাম সরকার। মুসলিম বাসিন্দাদের উচ্ছেদের পর সেখানে এখন সাইনবোর্ড লাগিয়ে রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এগুলো সরকারের খাস জমি, মুসলমানরা হলো দখলদার। অন্যদিকে, উচ্ছেদের শিকার হওয়া স্থানীয় বাঙালি মুসলমানরা বলছেন, জমিগুলো যে তাদের পূর্বপুরুষরা কিনে নিয়েছেন সেই দলিল আছে তাদের কাছে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করতে চায় না। জমি দখল করতে তারা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। উচ্ছেদ হওয়া একজন নারী আনোয়ারা বেগম বলছেন, উচ্ছেদের শুরুতে প্রথম দুদিন আমরা নিজ থেকেই বাড়িঘর ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারণ বলা হয়েছিল, সরকার অন্যত্র আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারি, এটা একটা কৌশল।
তখন যুবকরা বিক্ষোভে নামে। তারপর তো গুলি চালানোর ঘটনা ঘটলো। দুজন মারা গেছেন এবং অনেকেই এখনো আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন। আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, আমরা এখন কোথায় যাব, কী খাব-কিছুই জানি না। শুধু মুসলমান পাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাই সরকার যাই বলুক না কেন, আমরা মুসলমান-এই অপরাধেই আমাদেরকে ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা যে এর বিচার চাইবো, সেই সুযোগও নেই।