admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২১ ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
এমডিও বিদেশে গ্রাহকের টাকা পাচার করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা! ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিংয়ের ৬০-৭০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর মধ্যে গ্রাহকের অগ্রিম টাকার ৫০ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জসীম উদ্দীন চিশতিও চলে গেছেন একই দেশে। সিআইডি সূত্র জানায়, ধামাকার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির এমডি জসীম উদ্দীন বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি।
তাকে বেশ কয়েকবার ডাকা হলেও করোনার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না জানিয়ে এড়িয়ে গেছেন তিনি। ফলে শিগগিরই ধামাকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে মানি লন্ডারিং আইনে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রাহককে পণ্য দেয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নিয়েছে ধামাকা। ডাবল টাকা ভাউচার ও সিগনেচার কার্ড স্কিমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।সূত্রমতে, গ্রাহকের পণ্যের অগ্রিম টাকা ‘ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম’ নামে খোলা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জম করেছে ধামাকা। সেখানে গত ৮ মাসে ৫৮৮ কোটি টাকা লেনদেন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৯৩ হাজার টাকা। এটিসহ সংশ্লিষ্ট ১৪টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে এমডি জসীমের ৫টি, ইনভ্যারিয়ান্ট টেলিকমের ৭টি, মাইক্রো ট্রেডের ১টি ও মাইক্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ১টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সিআইডি কার্যালয়ে ডাক হয় ধামাকার এমডি জসীম উদ্দীন, সিইও সিরাজুল ইসলাম, কাউন্টস ও ফাইন্যান্স প্রধান আমিনুর হোসেনকে। তাদের মধ্যে শেষের দুই কর্মকর্তা হাজির হলেও সাড়া দেননি এমডি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ওই দুই কর্মকর্তা। এমতাবস্থায় ধামাকার শীর্ষ কর্তাদের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে সিআইডি। সেইসঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করতে চিঠি গেছে নির্বাচন কমিশনে।
এসব কর্তারা হলেন- এমডি জসীম উদ্দীন চিশতি, ডিএমডি নাজিম উদ্দীন, সিইও সিরাজুল ইসলাম, পরিচালক সাফওয়ান আহমেদ, অ্যাকাউন্টস ও ফাইনান্স প্রধান আমিনুর হোসেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ধামাকার এমডি জসীম উদ্দীন চিশতি বা কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় মন্তব্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা।
এদিকে, ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্তে নেমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে সিআইডি। এগুলোর মধ্যে ধামাকার ব্যাংক হিসাব জব্দে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডট কম বিডি।