admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২১ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
মোঃ মজিবর রহমান শেখ, জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের খাবার পরিবেশনে অনিয়মের সংবাদ করায় ৩ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে মামলা হয়েছে, তার এজাহারে বাদীই খাবার সরবরাহে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। উল্লেখ করেছেন আদালতে। এছাড়া প্রকাশিত সংবাদের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জনরোষ সৃষ্টি হবে বলে যে কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাও বিশ্বাস যোগ্য নয় বলেছেন আদালত। ঐ মামলায় সাংবাদকর্মীকে জামিন আবেদনের শুনানিকালে রোববার (১১ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সিনিয়র চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ কথা বলেন।
পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদেশে আদালত বলেন, হাসপাতালে দু-একদিন খাবার সরবরাহে ব্যর্থতা হয়েছে তা মামলার বাদী এজাহারে আংশিক স্বীকার করেছেন। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর এ নিউজের সত্য-মিথ্যা জানা যাবে। ওই নিউজে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জনরোষ সৃষ্টি ও সামাজিক পরিস্থিতি বিঘ্ন হবে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। গত ৫ জুলাই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের খাবার পরিবেশনে অনিয়ম নিয়ে করা একটি প্রতিবেদন জাগো নিউজে প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “দিনে বরাদ্দ ৩০০ হলেও করোনা রোগীদের খাবার দেয়া হচ্ছে ৭০ টাকার!
সংবাদটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, জনরোষ সৃষ্টিকারী ও মানহানিকর দাবি করে ৯ জুলাই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধিকে আসামি করা হয়। ১০ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলার খোঁজখবর নিতে থানায় গেলে তানুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দিবাগত রাত ১টার দিকে তানুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তখন তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১১ জুলাই দুপুরে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয় তানুকে।
বিচারক শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার এজাহারেই খাবার পরিবেশনে অনিয়মের তথ্য । এদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাদিরুল আজিজ চপলের করা মামলার এজাহারের একটি কপি জাগো নিউজের হাতে এসেছে। মামলার এজাহারে জাগো নিউজে প্রকাশিত সংবাদে খাবার সরবরাহে অনিয়মের সত্যতা উঠে এসেছে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ‘গত জুন মাসে দু-একদিন খাবার সরবরাহে সামান্য ব্যত্যয় ঘটলেও অন্যান্য সময় সরকারি বরাদ্দ মোতাবেক যথাযথভাবে রোগীদের খাবার প্রদান করা হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়কের দাবি, জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই তিনি হাসপাতালে খাবার সরবরাহে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, হাসপাতালের পাচক (বাবুর্চি) ও রোগীদের খাবার পরিবেশনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য জানতে পেরেছেন। অর্থাৎ সংবাদ প্রকাশের পরই তিনি খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তার দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লিখিত হাসপাতালে ‘দু-একদিন খাবার সরবরাহে তথ্য জানতে পেরেছেন। পরে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।
দু-একদিন খাবার সরবরাহে ব্যর্থতা কথা অকপটে স্বীকার করা হলেও তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং সুনামক্ষুন্য হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদারের কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পযন্ত গ্রহণ করে নি বলে জানাযায়। অনতি বিলম্বে ঠিকাদারকে আইনের আশ্রয় নিয়ে বিচারের দাবী জানান সাধারণ মানুষ।