ইব্রাহিম আলম সবুজ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষক ১৪ জন অথচ কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন সারি সারি বেঞ্চ,কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী মাত্র একজন। হাতে বই নিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি আক্তার একাই বসে আছে শিক্ষকের অপেক্ষায়। অন্যদিকে পাশের কক্ষে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী গল্প-আড্ডা ও মোবাইল ফোনে ব্যস্ত, আরেক কক্ষে এক শিক্ষিকা নিজের শিশুকে নিয়ে বসে আছেন।
এমন চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁন ইউনিয়নের হাসারপাড় বড়বাড়ি গ্রামের বড়বাড়ী মহসিনিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। গত বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নথিতে শিক্ষার্থী ১৮৮ জন হলেও উপস্থিত ছিল মাত্র একজন। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ১৪ জন ও কর্মচারী ৫ জন-মোট ১৯ জন। মাসে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হচ্ছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৪ টাকা।
মাদ্রাসার তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ১৮৮ জন। তবে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সরেজমিনে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি আক্তার ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি।
বৃষ্টি আক্তার বলে, আমরা প্রতিদিন পাঁচ-ছয়জন করে আসি। ক্লাস নিয়মিত হয় না, তাই অনেকেই আসে না।
শিক্ষার্থী উপস্থিতির পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফলও হতাশাজনক। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১ জন অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র দুইজন।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম অভিযোগ করেন, কাগজে শিক্ষার্থী দেখানো হলেও দাখিল পরীক্ষার সময় হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়। তাদের যাতায়াত ভাড়া, খাবার ও পকেট খরচও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাবেক শিক্ষার্থী সাগর ইসলামও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা থেকে পাস করার পর তাকে অন্যের হয়ে তিনবার প্রক্সি পরীক্ষা দিতে হয়েছে এবং এজন্য ভাতা দেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সহকারী সুপার আব্দুস সুবহান বলেন, তিস্তা নদী-সংলগ্ন ও হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না।
সুপার শাহ আলম বলেন, আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় আসে না। হাফেজিয়া থেকে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ায় ফলাফলও খারাপ হচ্ছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. লাল মিঞা সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানা আছে। আগামীতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, দুই-একদিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করা হবে। অনিয়ম বা সমস্যা পাওয়া গেলে প্রতিবেদন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৬ সালে স্বীকৃতি পাওয়া এমপিওভুক্ত এ মাদ্রাসার নথিতে ১৮৮ শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে একজনের উপস্থিতি শিক্ষা কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।