admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, স্টাফ রিপোর্টারঃ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক রাতে দুটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার, আটক ৮ জন মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক রাতে দুটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার ১২ দিন পর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে লুন্ঠিত মালামালসহ ৮ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দুর্ধর্ষ ডাকাত ও আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যরা হলেন, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার বালিথা গ্রামের মৃত আঃ ওহাবের ছেলে মিন্টু@সামাদ@বাচ্চু (৬০), একই জেলা ও থানার মধুডাঙ্গা গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে রিপন@সাইফুল (২৯), একই জেলা ও থানার কুনি কুশরা গ্রামের মৃত রাব্বির ছেলে বিশু (৩৫), একই জেলা ও থানার কালামপুর চরপাড়া গ্রামের মৃত মঞ্জু মোল্লার ছেলে আশরাফুল মোল্লা (২০), একই জেলা ও থানার গাংগুটিয়া গ্রামের মোঃ সানাউল্লার ছেলে আঃ কাদের @স্বপন (৩৫), গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার গোসাত্রা উত্তর কাঞ্চনপুর গ্রামের আকবরের ছেলে তাইজুদ্দিন (৬০), একই জেলা ও থানার আটাবর গ্রামের মৃত ছাত্তারের ছেলে মনির (৩৭), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ধুসরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ফকির শেখের ছেলে মোঃ বাদল মনোয়ার হোসেন (২৮)।
পুলিশ বলেন গত ২৭/০১/২০২২ খ্রিঃ রাত আনুমানিক বেলা ১ টায় সময় অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সিংগাইর থানাধীন নতুন ইরতা সাকিনের মোঃ আব্দুল হান্নানের পুত্র মোঃ নুর উদ্দিন (৩২) এর বসত ঘরের একতলা বিল্ডিংয়ে দরজা ভাঙ্গিয়া রুমে প্রবেশ করিয়া মোঃ নুর উদ্দিন সহ তাহার স্ত্রী মনি বেগম (৩২), ছেলে রাব্বি (০৯) ও ভাগিনা বাবলু (১৬)-কে মারপিট করাসহ পিঠমোড়া করিয়া হাত ও মুখ বাধিয়া এবং মারাত্মক অস্ত্রের ভয় দেখাইয়া মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ৪ ভরি ০৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার লুন্ঠন করে। অতঃপর ডাকাত দল মোঃ নুর উদ্দিনের প্রতিবেশী প্রবাসী শাকিল খানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩০) এর বসত ঘরের দরজা ভাঙ্গিয়া ভিতরে প্রবেশ করিয়া মর্জিনা বেগমকে মারপিট করিয়া ০৫ ভরি ০৬ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও ২০ ভরি ওজনের রুপার অলংকার লুন্ঠন করে। ডাকাতিতে সর্বমোট ৮,৩৩,৬০০/- টাকা লুন্ঠিত হয়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে সিংগাইর থানায় অভিযোগ আসলে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরদিন সকালে দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সিংগাইর থানায় অভিযোগ আসলে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা (নং-৩৩) দায়ের করা হয়।
এক রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মামলা রুজু হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। সেই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ গোলাম আজাদ খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ হাফিজুর রহমানের দিক নির্দেশনায় সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক, সিংগাইর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ মোঃ আবু হানিফ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ তারিকুল ইসলাম, এসআই আলমগীর হোসেন অনিক, এএসআই মহসীনসহ অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সদের সমন্বয়ে চৌকশ অভিযানিক টিম গঠন করে অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম মোল্যার সার্বিক সহযোগিতায় ক্লুলেস ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারসহ বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে থাকেন। সকল অফিসারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১২ দিনের মধ্যেই এই ক্লুলেস ডাকাতির মামলার সাথে সম্পৃক্তদের ঢাকা জেলার ধামরাই, আশুলিয়া, সাভারসহ গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ডাকতদের দেখানো মতে লুট করা মালামালের মধ্য ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ হাজার টাকা, ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত চাপাতি, ছুরা ও ৪ টুকরা লোহার রড উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে সিংগাইর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ তারিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুরে আসামীদের ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদলতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।