হোম
অপরাধ

শুধু ঢাকা বিভাগেই সাড়ে তিন হাজার জন মাদক ব্যবসায়ী অভিযানেও ফল মিলছে না কেন?

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ফাইল ছবি

শুধু ঢাকা বিভাগেই সাড়ে তিন হাজার জন মাদক ব্যবসায়ীর অভিযানের পরও ফল মিলছে না কেন?  সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কর্মকর্তারা বলেছেন, যাদের চিহ্নিত করে এই তালিকা করা হয়েছে, তাদের নজরদারিতে রেখে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এখন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালেই দেশব্যাপী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কয়েকশ সন্দেহভাজন নিহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, মাদক ব্যবসায় গডফাদার এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এবং মূলত সেকারণে অভিযানে কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গত বছরের তালিকায় ঢাকা বিভাগে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল তিন হাজার। এবছরের তালিকায় সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সাড়ে তিন হাজার।
এবার অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এই হালনাগাদ তালিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

তালিকা: সন্দেহভাজনদের কী অবস্থান সমাজে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের প্রধান ফজলুর রহমান বলেছেন, গডফাদার, সরবরাহকারি এবং খুচরা বিক্রেতা-এই তিনভাগে ভাগ করে সন্দেহভাজনদের জীবনবৃত্তান্ত দিয়ে এবার তালিকা করা হয়েছে। এই তিন শ্রেণির সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজে কিভাবে অবস্থান করেন এবং মাদকসেবীদের হাত পর্যন্ত মাদক কিভাবে পৌঁছায়-এই বিষয়গুলোও চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফজলুর রহমান বলেছেন, “মাদক পাচারকারী বা গডফাদাররা দৃশ্যমান রাখে অন্য ব্যবসা। আর মধ্যম পর্যায়ে যারা থাকে তাদেরও অনেকে ভিন্ন ব্যবসাকে সামনে রাখে। তবে খুচরা ব্যবসায়ী, যারা মাদকসেবীদের হাতে মাদক পৌঁছিয়ে দেয়, তাদের বড় অংশ অন্য কিছু করে না। আবার কিছু কিছু আছে, যারা রাস্তায় বা ফুটপাতে পানের বা সিগারেটের দোকান নিয়ে বসে গাঁজা এবং ইয়াবাও বিক্রি করে থাকে, মি: রহমান উল্লেখ করেন।

তিনি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত বছর মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টিয়ে মোবাইল ফোনে চাহিদা নিয়ে তারপর মাদকসেবীদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিত। সেই প্রেক্ষাপটে তাদের অভিযানেও তারা কৌশল পরবর্তন করেছিলেন বলে তিনি জানান। কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা পর্যবেক্ষণে দেখেছেন যে, দ্রুত ধনী হওয়ার চিন্তা থেকে মাদক ব্যবসায় এসেছে-এদের সংখ্যাই বেশি। চাহিদা বেশি ইয়াবার, আসছে আইসের মতো মাদক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকের শুরুতে নিষিদ্ধ হলেও এখনও গাঁজার চাহিদা রয়েছে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ফেনসিডিলের ব্যাপক চাহিদা হয়েছিল মাদকসেবীদের কাছে। প্রায় দুই যুগ ধরে ফেনসিডিলের জায়গা দখল করেছে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা ইয়াবা। এখন এলএসডি এবং আইসের মতো মাদক আসছে।

অভিযান কেন ব্যর্থ হচ্ছে?
কিন্তু মাদক বিরোধী অভিযানে শুক্রবারও অধিদপ্তর এবং র‍্যাব আলাদা আলাদাভাবে আইস এবং ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি ২০ জনকে আটক করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে দেখা যায়, ২০১৮ সালে দেশব্যাপী পুলিশ র‍্যাবের মাদক বিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনশ’র বেশি সন্দেহভাজন নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, এসব অভিযানের বড় দূর্বলতা হচ্ছে, মাদক ব্যবসায় কোন কোন প্রভাবশালী রাজনীতিকের নাম আলোচনায় এলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়।
তারা মনে করেন, মূলত সেকারণেই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান মনে করেন, চাহিদার কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নেয়ায় এবং উৎস বন্ধ করতে না পারায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রথমত আমাদের দেশে চাহিদা আছে বলেই মাদক আসছে। এই চাহিদার কারণগুলো নিয়ে আমরা কোন কাজ করছি না, বলেন মিজ রহমান। মাদক পাচার হয়ে আসার রুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ করে ইয়াবা টেকনাফ হয়ে আসে এবং সেখানকার সীমান্তে পাচারকারিরা বিভিন্নভাবে সুযোগ নিচ্ছে। এই ব্যবসায় আমরা জন প্রতিনিধিদের কারও কারও নামও শুনে থাকি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। মিজ রহমান কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকেও বড় ঝুঁকি হিসাবে দেখেন।

উৎস বন্ধ হচ্ছে না যে কারণে!
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও অবৈধ মাদকের উৎস বন্ধ করার বিষয়কে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসাবেই দেখছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, এখন মূলত মিয়ানমার থেকেই ইয়াবা এবং আইসের মতো মাদক আসছে। সেই উৎস বন্ধ করতে মিয়ানমার থেকে এখনও সেভাবে সাড়া মিলছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতের সাথে বিভিন্ন সময় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দেশটি আমাদের সীমান্তের কাছ দিয়ে অনেক ফেনসিডিল কারখানা ধ্বংস করেছে। ফলে ফেনসিডিলের বাজার কমে গেছে, বলেন মি: রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ইয়াবার উৎস বন্ধে মিয়ানমারের দিকে এখনও সেরকম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিকভাবে উৎসব বন্ধের চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হাতেনাতে মাদক পাওয়া না গেলে আটক করা যায় না। সেজন্য এখন তালিকায় সন্দেহভাজন হিসাবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের নজরদারিতে রেখে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

সর্বশেষ খবর

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন।
রংপুর 9 hours আগে

দিনাজপুরে খাস জমিতে অবৈধ ভাবে ভবন নির্মানের প্রতিবাদ করায় বাদীর
আইন-বিচার 9 hours আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ।
খেলাধুলা 9 hours আগে

দিনাজপুরের বিরামপুরে দিবালোকে ৮ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই ৪ জন আটক।
আইন-বিচার 9 hours আগে

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আটক।
অপরাধ 10 hours আগে

বগুড়ার আদমদীঘিতে পুকুরে মিলল ভাসমান মরদেহ।
দুর্ঘটনা 12 hours আগে

দিনাজপুরে পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে শর্ত সাপেক্ষে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচি।
রংপুর 12 hours আগে

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের একতা প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন
রংপুর 15 hours আগে

ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে ৩০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক কাউন্সিলরের ভাই গ্রেফতার।
রংপুর 2 days আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শত পরিবারের ভাগ্য গড়া সেই ফাতেমা আজ দেনার
রংপুর 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক