admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
বরিশালের ওসি সম্পর্কে প্রার্থীর অভিযোগ আমার ভোট ঘুরায়, দিছি ৪/৫টা কেনু। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকা মার্কার এক প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সে ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি বেশ গর্বের সাথে বর্ণনা করছেন, কীভাবে তিনি ওসিকে থানায় গিয়ে শায়েস্তা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিলন গত বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মীরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন রাজগুরু গ্রামে উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
তার এ বক্তব্য বাবুগঞ্জ দর্পণ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করা হয়। ৪১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আক্তারুজ্জামান এক পর্যায়ে বলেন, এর আগের নির্বাচনে আমার ভোট রাশেদ খান মেনন চুরি করে নিয়ে গেছেন। বাবুগঞ্জের ওসি মাহাবুব গৌরনদীর জামাই। এই সুফিয়ান ভাই (পাশের এক সমর্থক) সেদিন বলতেছিল আমার ভোট ঘুরানোর জন্য ওসি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি গত নির্বাচনে সরোয়ার মাহমুদের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন সেন্টারে আমার ভোট কেটেছেন।
সেন্টারে সেন্টারে গুলি করেছেন। এ কথা জানতে পেরে আমি মুজিব কোর্ট খুলে ওসির চেম্বারে গিয়ে তাকে চেয়ারে বসিয়ে ৪/৫টি কেনু (মারধর) দিয়েছি, শালা তুই (ওসি) কিভাবে আমার ভোটটা ঘুরাও (বদল করো)।সব কনস্টেবল আমার পক্ষে ছিল। তারা তখন বলছেন, স্যার আগেই বলছিলাম মিলন মিয়া জিনিস, থানায় আইয়া গুতাইবে (মারধর করবে)। এহন গুতা খাইছেন? আমি এই মুজিব কোর্ট খুইলা ওসিরে ওই রুমের মধ্যে গুতাইছি।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা দাবি করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে আক্তারুজ্জামান ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। ওসিকে মারধরের পাশাপাশি তিনি অন্য উপজেলার চেয়ারম্যান, বহিরাগত মানুষ এনে এলাকায় জড়ো করছেন। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্যই তিনি এ অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিন মিয়া বলেন, আমরা তার বক্তব্য শুনেছি। তিনি ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন যেন ভোটাররা নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে না যায়। তবে অভিযুক্ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, গত নির্বাচনের (২০১৬ সাল) সময় বাবুগঞ্জের তৎকালীন প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, সেটার কথা বলে বর্তমান প্রশাসনের লোকজন যে ভালো তা বলে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছি। যে ভিডিও নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটি নির্বাচনী প্রতিপক্ষ ফায়দা হাসিলের জন্য সাজিয়ে প্রচারণা করছে।
এদিকে বাবুগঞ্জ থানার বর্তমান ওসি মাহাবুবুর রহমান বিষয়টি এখনো শোনেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ বছর আগের ঘটনা। আর সে বিষয়ে থানায় কোনো জিডি বা মামলা নেই। প্রার্থী কি বক্তব্য দিচ্ছে সেটি ভোটাররাই বিবেচনা করবেন। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ওসিকে মারধর করার বক্তব্য অবশ্যই নির্বাচনী আচরণ-বিধির লঙ্ঘন। প্রচার-প্রচারণায় এমন আচরণ করলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রহমতপুর ইউনিয়নে ২৮ নভেম্বর ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিয়নে পাঁচজন চেয়ারম্যান এবং ৩৩ জন প্রার্থী সংরক্ষিত এবং সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০টি ভোটকেন্দ্রে ২১ হাজার ৫৫৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।