admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ, ২০২২ ২:২৬ অপরাহ্ণ
অয়নিকা চৌধুরী, ঝিনাইদহ থেকেঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব মোঃ তোফাজ্জল এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ। ভুক্তভোগী সাগান্না ইউনিয়নের জনগণ বলেন, তোফাজ্জল এর অফিসে সব সময়ই চার/পাঁচ জন দালালের দখলে থাকে। জমি খারিজ করতে,বা দাখিলা কাটতে গেলেই জনগণকে জিম্মি করে আদায় করেন অতিরিক্ত টাকা।
জমি খারিজ করতে সরকারি ফি এর বাইরে তোফাজ্জলকে দিতে হয় খারিজ প্রতি পাঁচ হাজার টাকা, অধিকাংশ দাখিলা কাটতে আসা মানুষের জমাকৃত টাকার অর্ধেক টাকার দাখিলা কাটেন। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তোফাজ্জল বলেন দেখুন আমি কোনো টাকা নেইনা,অফিস খরচের জন্যে মাঝে সাঝে একটু উপরি করা হয়। এছাড়াও, সব থেকে বড় অভিযোগ স্থানীয় কিছু অসাধু মাটিকাটা সিন্ডিকেট এর সাথে রয়েছে তোফাজ্জলের সুসম্পর্ক।
তোফাজ্জল মাটিকাটা সিন্ডিকেট এর কাছ থেকে প্রতিদিনই তোলাবাজি করেন, এসিল্যান্ড সহকারী কমিশনার ভুমির নাম ভাঙ্গিয়ে মাটিকাটা ইটভাটার দালালদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। তিনি কথায় কথায় বলেন এই টাকা আমি একা খেতে পারিনা এই টাকা সবাইকে ভাগ দিতে হয়, এসিল্যান্ড স্যারকেও দিতে হয়।
সরেজমিনে বিষয়টি নিয়ে কথাবলার জন্যে সাগান্না ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় তোফাজ্জল অফিসের মধ্যে একটি রুমে বিছানা বালিশ নিয়ে বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন আছেন। প্রায় দিনই তার অফিসে ভুক্তভোগী জনগণ যেয়ে দেখতে পান তিনি ঘুমাচ্ছে। সাগান্না ইউনিয়নে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ভূমি শ্রেনী পরিবর্তন করে দশ/পনেরটি পুকুর খননের নামে চলছে মাটির ব্যবসা, তোফাজ্জল বলেন, কিসের অনুমতি আমি তোফাজ্জলই নিজেই অনুমতি। তিনি দাঁড়িয়ে থেকে মাটি কাটান এবং পুকুর প্রতি বিশ হাজার করে টাকা নেন বলে অভিযোগ করে বলেন ভুক্তভোগী জনগণ।
নায়েব তোফাজ্জল এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন এ (দুদক) অভিযোগ করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, অবৈধ সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন এই ঘুষখোর নায়েব তোফাজ্জল। তিনি,ইউএনও,এসিল্যান্ড এর নাম ভাঙ্গিয়ে জনগণকে জিম্মি করে ঘুষের টাকা আদায় করেন। ঝিনাইদহ জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাবা মুনিরা বেগমের নিকট আমাদের আবেদন যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিগ্রস্থ ভূমি কর্মকর্তা তোফাজ্জলকে চাকুরী থেকে বহিষ্কার করা হোক এবং তার কৃতকর্মের জন্যে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।