admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২১ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের রোহিঙ্গা শিবিরে কথিত আরসা নেতার মরদেহ। কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কথিত নেতা মোহাম্মদ হাসিমের মরদেহ পাওয়া গেছে। ক্ষিপ্ত রোহিঙ্গাদের গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবুর রহমান। নিহত হাসিম টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাংয়ের ২২নং ক্যাম্পের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে। বলা হচ্ছে, তিনি আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসার) সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।
অবশ্য প্রশাসন বাংলাদেশে আরসার কোনো অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আরসার নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে ত্রাস কায়েম করে রেখেছিলেন হাসিম। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড ও মাদরাসায় হামলা চালিয়ে সাতজন হত্যার পেছনে তিনি অন্যতম হুকুমদাতা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।। ক্যাম্পে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণযজ্ঞ চালাতেন হাসিম। এসব কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। তারাই হয়তো সুযোগ পেয়ে গণপিটুনিতে তাকে হত্যা করেছে।
অভিযোগ আছে, সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড এবং সাত খুনে আরসা জড়িত ছিল। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠে। প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার এ রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকাণ্ডের মাস না পেরোতেই উখিয়ায় আশ্রয়শিবিরে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে খুন করা হয় আরো সাত রোহিঙ্গাকে।
এসব ঘটনায় রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্য রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।