admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২২ ৬:২১ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, ব্যুরো প্রধান ঢাকাঃ ঢাকা জেলার সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ ৯জনের বিরুদ্ধে ঢাকা আদালতে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মানবপাচার মামলা দায়ের করেছেন পটুয়াখালী কলাপড়া টিয়াখালী গ্রামের এক যুবতী। ঘটনাস্থল উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকার মুগদা থানার ৪৬/বি-১ উত্তর মানিকনগরের বাসা। সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ দুপুরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মামলা নং ১১/২০২২, ধারা: মানবপাচার আইনের ৭/৮/১০/১১/১৪।এদিকে সাইফুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবর বনগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাইফুল আত্নগোপনে আছেন বলে তার ঘনিষ্টরা দাবি করেছেন।
ঢাকা মহানগর মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন মীর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৮২/২ ইউনুস সুপার মার্কেটের নিউ পপুলার আবাসিক হোলেটের ভাড়াটিয়া মালিক, শহীদ ফারুক রোড এলাকার মোঃ জাভেল হোসেন পাপন (৪১) রাজধানীর উত্তর মানিকনগর এলাকার মোঃ মোখলেছ (৩৫) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার কাবিলগঞ্জ গ্রামের মৃত-তোফাজ্জল মিয়ার ছেলে মোঃ আনিসুল বাসার রতন (৩২) বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার সিন্নিরচর গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে মোঃ জসিম (৫০) রাজধানী যাত্রাবাড়ীর ৮২/এ, শহীদ ফারুক রোড এলাকার মোঃ কবির হোসেন ওরফে মিরাজ (৪৫) রাজধানীর ৪৬/বি/-১ উত্তর মানিকনগর এলাকার ভাড়াটিয়া মোঃ আলাউদ্দিন (৩০) মোসাঃ আনোয়ারা বেগম আঙ্গুরীর (৫০) এর বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন ওই নারী।
বাদির আইনজীবি এডভোকেট জাকির হোসেন হাওলাদার জানান, মানবপাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। পিটিশন মামলায় বাদির দাবি, ঘটনার পর তিনি পালিয়ে মুগদা থানায় গিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করলেও থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীর মামলা না নিয়ে তাকে হয়রানি করেন। থানার এসআই এনামুল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলেও মামলা রেকর্ড না করায় ওই জোনের সহকারি কমিশনারের (এসি) কাছে গিয়েও প্রতিকার মিলেনি।

বাদির অভিযোগ, বিবাদীরা বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া আঙ্গুরী ও তার সহযোগীরা মাদক ও নারী পতিতা ব্যবসা করিত এবং এ ব্যাপারে সে বাদী হয়ে গত ১৩ই মার্চ মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে বলে জানায়। ধর্ষণকারী জাভেল হোসেন পাপন, জসিমসহ অনেকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও নারী পাচার, আবাসিক হোটেলে পতিতা ব্যবসাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে । বিবাদীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বর অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এদিকে মুগদা থানায় ধর্ষণ মামলা না নেয়াতে ধর্ষিতা বাদী হয়ে গত ১০ এপ্রিল আদালতে পিটিশন মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আঙ্গুরি তাকে গৃহপরিচারিকা পরিচয়ে বাসায় রেখে দেহব্যবসা করিয়ে আসছিলেন। সাইফুলসহ অন্য সাতজন তার সঙ্গে নিয়মিত শারিরিক সম্পর্কে জড়াতেন । মামলা আমলে না নেওয়ায় থানার ওসিকে বিবাদি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে জোনের এসি ও থানার এসআইকে। তদন্ত সংশ্লিরা জানান, আদালতের নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাদির বক্তব্য নিয়েছেন। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।