রতি কান্ত রায়,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬ ৬:০৫ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নটকনের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বাড়ছে । এক সময় যা ছিল বুনোফল এখন সেটি মর্য়াদায় প্রায় ফলের বাজা আমের সমতুল্য। আগে যা বনে বাদারে অনাদরে প্রাকৃতিক ভাবে বুনোফল হিসেবে বেড়ে উঠতো। সবাই এই ফল খেত না । পাখ পাখালি আর গ্রামের দুষ্টু কিশোর কিশোরীরা বন-বাদার হতে নটকন ফল সংগ্রহ করে কিছু খেত আর বেশির ভাগ ফলই নষ্ট হত। দিন বদলে এখন এই ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ায় চাহিদা মেটাতে ফুলবাড়ীতে নটকন চাষির সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।
নটকন চাষ লাভ জনক হওয়ায় এখন অনেকেই নেমে পড়েছেন নটকন গাছ লাগার কাজে। ফুলবাড়ীতে উৎপাদিত নটকন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন জেলার ভোক্তার চাহিদা মেটাচ্ছে । ফুলবাড়ীর বিভিন্ন বাজারে এখন নটকন ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে । এবার ফুলবাড়ীতে নটকনের ফলন ভাল হয়েছে । বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে কৃষকের কাছ থেকে বাগান কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় নটকন নিয়ে যাচ্ছেন। ভাল দাম পাওয়ায় বাগান মালিকরা খুবই খুশি। বাগান মালিক ছাড়াও যাদের সুপারির বাগানে,ঝোপে-ঝাড়ে, এক/ দুটি করে নটকন গাছ প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠেছে তারাও নটকন বিক্রি করে ৪/৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। নটকন চাষে তেমন খরচ নেই। তাছাড়া ইহা ভাল জমিতে চাষ করার প্রয়োজন নেই। ছায়া যুক্ত বা ঝোপ-ঝাড় ,জঙ্গল বেষ্টিত জমিতে নটকনের ফলন ভাল হয়।
ইহা চাষের জন্য আলাদা কোন জমির প্রয়োজন হয় না। চাষিরা সুপারির বাগানের ফাঁকে, বন , বা,ঝোপ ঝাড় বেষ্টিত জমিতে নটকনের বাগান করে থাকেন। লাগানোর ৫/৬ বছরের মধ্যে নটকন ধরতে শুরু করে । গাছের গোড়া থেকে ছোট ডাল পর্যন্ত প্রচুর নটকন ধরে। একটি মাঝারি গাছ থেকে দুই থেকে আড়াই মন ও বড় গাছ থেকে দশ থেকে বারো মন নটকন পাওয়া যায়। আগে বনে -বাদারে নটকন প্রাকিতিক ভাবে ফললেও বিক্রি করার কথা কেউ কল্পনাও করতোনা ।
কিন্তূ বর্তমানে নটকন জনপ্রিয়তায় গ্রীষ্মের অন্যান্য ফল যেমন কাঁঠাল ,আম, জাম ইত্যাদির সমান এবং ফুলবাড়ীতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চেয়ে বেশি দামে নটকন বিক্রি হচ্ছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা নটকন নিয়ে যাচ্ছেন । বড়ভিটা গ্রামের কৃষক শৈলেন্দ্র কুমার বলেন, তিনি ১ একর ৪০ শতক জমির সুপারি বাগানের ভিতর ৮০ টি নটকন গাছ লাগিয়েছেন। প্রতি বছর দের থেকে দুই লক্ষা টাকার নটকন বিক্রি করেন । শৈলেন্দ্রর দেখাদেখি শাহজাদা মিয়া ১ বিঘা,বাদল প্রফেসর ২বিঘা, লক্ষণ মাষ্টার ২বিঘা জমির সুপারি বাগানের ভিতর নটকন গাছ লাগিয়েছেন। সবাই ভাল দামে নটকন বিক্রি করে খুব খুশি। নটকনের বাগান লাভজনক হওয়ায় সবাই সুপারি বাগানের ভিতর ও ঝোপে ঝাড়ে নটকনের বাগান লাগার কাজে নেমে পড়েছেন। নটকন গাছের তেমন যত্নের প্রয়োজন হয় না।
প্রতি বছর ফল পাড়ার পর কিছু রাসায়নিক সার গাছের চারা পাশে পুঁতে দিতে হয়। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ফুল আসা থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৩/৪বার স্পে করতে হয় । নটকন ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ফুলবাড়ীর বিভিন্ন বাগান মালিকের কাছ থেকে নটকন কিনে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। ফুলবাড়ীর উৎপাদিত নটকন গুনে মানে ভাল হওয়ায় এর চাহিদা দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনে দিনে বাড়ছে। ফুলবাড়ী কৃষি অফিস সুত্রে জানিয়েছে,নটকন চাষ লাভ জনক হওয়ায় এটি সাথী ফসল হিসেবে সুপারির বাগানে, ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং এর চাষের আওতাও বাড়ছে। কৃষি অফিস থেকে,নটকন চাষিদের সব সময় প্রোয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।