ইব্রাহিম আলম সবুজ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
অর্ধবার্ষিকী পরিক্ষায় অস্বাভাবিক হারে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রতিগ্রাম বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম দুলালের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক রোববার ৫
জুলাই কাল ১১:০০ টায় বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন একজন ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর পরিক্ষার ফি কিভাবে ৬০০-১২০০ টাকা হতে পারে। অষ্টম থেকে শুরু করে দশম শ্রেণী পর্যন্ত একেকজন শিক্ষার্থীর কাছে ৮০০ থেকে ১৭০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এরেই প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন অভিভাবকবৃন্দ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য শাহ আলম তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তার ছেলে মিলন বাবু দশম শ্রেণীতে পড়ে তাকে পরিক্ষার ফি বাবদ ১৭০০ টাকা দিতে হয়েছে।
আরেক অভিভাবক সদস্য জিয়াউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন তার কাছে ১০০০ টাকা নেওয়ার পরে প্রধান শিক্ষক বলেন তিনি যেন এই টাকার কথা অন্য কাউকে না বলেন।আনোয়ার হোসেন তার মেয়ে রোকাইয়া ৮ম শ্রেণীতে পড়ে তার থেকেও ৮৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। এভাবেই বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা আদায় করেন।
এছাড়াও পরিক্ষা শেষে প্রত্যয়ন পত্র,প্রশংসা পত্র,মুল সনদ নিতে গেলেও মোটা অংকের টাকা গুনতে হয় শিক্ষার্থীদের।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল রানা,শিমুল রানা তার বক্তব্যে বলেন স্থানীয় অনেক অভিভাবক তাকে বিষয় টি জানালে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয় টি তুলে ধরেন।একারণেই ওই স্কুলের এক শিক্ষক তাকে হুমকি দেন।প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সাংবাদিকবৃন্দ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম দুলালের নিকট অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ও রুগ্ন আচরণ করেন।
এই দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিভাবকবৃন্দ জেলা প্রশাসক কুড়িগ্রাম ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগের অনুলিপি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম ও উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বরাবর দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে জানতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক কে জানান বিষয় টি আমি অবগত নই,অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম প্রতিবেদক কে জানান আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।