admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:৪১ অপরাহ্ণ
মেজর (অব.) রাশেদ হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি। কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি। আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ তিন আসামি হলেন- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াস ও নিজাম উদ্দীন। তারা তিনজনই মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর মেজর সিনহাকে ডাকাত বলে প্রচার করেছিলো।
আজ সকাল ১০টায় তাদের কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে তাদের আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ’র খাস কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের প্রিজনভ্যানে করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ- এর আগে গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করে তৃতীয় দফায় চারদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ তাদের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর রিমান্ডের প্রথম দিনেই আজ তারা স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার আগে, গত ২৫ আগস্ট তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাদের ২৯ আগস্ট হেফাজতে নেয় র্যাব। তারও আগে, গত ১২ আগস্ট প্রথম তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে গত ১৪ আগস্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমবার হেফাজতে নেয় র্যাব। গত ১১ আগস্ট তাদের তিনজনকে বাহারছড়ার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়, রাশেদ সিনহা তার পরিচয় দিয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন। এরপর তিনি পিস্তল বের করলে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।