মোক্তারুজ্জামান মোক্তার,পার্বতীপুর,দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:০১ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে কৃষক দূঃচিন্তায় পড়ছে। কোথাও জমির মাটি ফেটে গেছে। আকাশে মেঘ দেখা যাচ্ছে কোথাও কোথাও টিপটাপ বৃষ্টি হলেও জমিতে সে পরিমান পানি নেই। এমন দৃশ্য আজ ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার ধানের জমির মাটি ফাটল ধরা জমিতে দেখা গেছে । সবুজ ধান গাছের মাঝে মাঝে মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল। গরম মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলার আমন ধানের জমিগুলোর এমন দশা।
পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।জুলাই আগস্টে রোপা লাগা, এখন পানির হাহাকার । স্থানীয় কৃষকরা জানান, জুলাই মাসের শেষে ও আগস্টের প্রথম দিকে অনেকে আমন ধানের চারা রোপা করেন। কিন্তু এরপর আকাশে বৃষ্টি না হওয়ায় জমির মাটি শক্ত হয়ে ফেটে গেছে । বাধ্য হয়ে কেউ কেউ মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।কৃষকের কণ্ঠে হতাশা
উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, জমিতে পানি নেই খুব কষ্টে আছি। মেশিন দিয়ে পানি দিতে গেলেও তেলের খরচ কুলাতে পারি না। উপজেলার মনম্মথপুর ইউনিয়নের জামতলী এলাকার কৃষক তসলিম মাষ্টার (৬২) বলেন, জমিতে পানি না থাকায় সার দিতে পারছিনা। ঐ ইউনিয়নে কালাম বিডিআর (৫৭) গোবিন্দপুর বাজার দুই তিন বিঘা জমি ফাটল দেখা গেছে, ঐ গ্রামের আলমগীর (৪৮) ও সোহাগে (৪২) জমির একই অবস্থা বলে কৃষকরা জানান। উপজেলার মাহবুবুর রহমান (৪৩) আরেক কৃষক বলেন, ৩০ দিনের মাথায় জমিতে সার দিলাম।
এখন আল্লাহ ভরসা, বৃষ্টি না হলে সব পরিশ্রম বৃথা হবে বলে জানান। উপজেলার ১০ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের দলাই কোটা গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৮) বলেন, আমার তিন চার বিঘা জমির পানি নাই, শুকিয়ে মাটি ফাঁটি গেছে। একই ইউনিয়নের শাফিউর রহমান (৫০) হাজীপাড়া গ্রামের তিনিও একই কথা বলেন। পাশের গ্রামের আতাউর রহমান (৬০) বলেন আমার ৮ বিঘার মধ্যে অর্ধেক জমিতে পানি নেই মাটি শুকিয়ে গেছে। এমন কথা উপজেলার পৌর এলাকার নামাপাড়া গ্রামের এমদাদুল ইসলাম (৩২) বলেন, আমার দেড় বিঘা মাটি ফাঁটি গেছে বলে জানান। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখানে বোরো-আমন ধানের মোট জমির পরিমাণ ১৯,০০০ হেক্টর। কৃষক পরিবার ৭৯,৬০৯টি, ইউনিয়ন ১০টি, ব্লক ২২টি, গ্রাম ২৩০টি,মৌজা ১৫৬টি মোট জনসংখ্যা ৪ লক্ষের উর্ধ্বে।
এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা অধিকাংশ মানুষের সরাসরি কৃষির উপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিব হোসাইন কে মোবাইল ফোনে না পাওয়া গেলেও অফিস সুত্র থেকে কৃষকের নিকট পরামর্শ , দ্রুত বৃষ্টি না হলে বিকল্প হিসেবে গভীর নলকূপ ও এলএলপি মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিতে হবে। পাশাপাশি জমিতে খড় বা আগাছা দিয়ে মালচিং করলে রস ধরে রাখার কথা জানান। এই প্রতিবেদকের কাছে কৃষকগণ অভিযোগ তুলেন, কৃষি বান্ধব সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সেচ সুবিধা ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি জানান । নইলে এবার আমনের উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়ার কথা জানান।