admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ মার্চ, ২০২০ ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পানি-বিদ্যুতের বাড়তি দাম জনগণ মেনে নেবে না। বিদ্যুত-পানির দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে জনগণের আন্দোলনে’ সরকার ভেসে যাবে। মঙ্গলবার পানি-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব এই হুঁশিয়ারি দেন। বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টা থেকে একঘণ্টার এই কর্মসূচি হয়। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীরা বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতেও স্স্নোগান দেন। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় এই মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল এবং অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুত ও পানির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, এই মুহূর্তে পানি ও বিদু্যতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় জনগণের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে সেখানে সরকার ভেসে যাবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ পর্যন্ত পানির দাম কমপক্ষে দশবার বেড়েছে। সেই পানি মুখেও দেয়া যায় না, খাওয়া যায় না। বিদ্যুতের দাম আগে ৮ বার বেড়েছে। এর কারণ হচ্ছে, কুইক রেন্টাল পাওয়ার পস্ন্যান্টের নামে তারা যে লুট করেছে, তাদের ভর্তুকি দেয়ার জন্য জনগণের পকেট কাটতে তারা বিদু্যতের দাম বাড়াচ্ছে। তারা যে চুক্তিগুলো করেছে যদি কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুতের সরবরাহ না করে তারপরেও তাকে পয়সা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি বছর তাদের ৫১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই টাকা বিদু্যতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে নিয়ে যাচ্ছে। যখন দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, চালের দাম বাড়ছে, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, লবণের দাম বাড়ছে, কাপড়ের দাম বাড়ছে, বাড়ি ভাড়া বাড়ছে তখন আবার এই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে, পানির দাম বাড়িয়ে এই যে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষকে যে একটা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলে দিয়েছে এই সরকার।
তিনি বলেন, এই সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে। সুতরাং তাদের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বুঝার মতো কোনো ক্ষমতাই নেই। আবার তাদের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, বিদু্যতের দাম অতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, জনগণ যাতে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন। কিন্তু জনগণ মেনে নেবে না। গত ১২ বছর ধরে জনগণের ওপর যে অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন-হত্যার যে স্টিমরোলার চালাচ্ছে জনগণ কখনোই তা আর মেনে নেবে না। অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান নতজানু পুতুল সরকার দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। স্বাধীনতাকে সরকার রক্ষা করতে পারবে না, এই স্বাধীনতাকে তারা বিক্রি করে দিচ্ছে। জনগণকে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে, জেগে উঠতে হবে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে ভারতের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেন চার দলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্র নীতিকে সরকার সর্বনাশ করে ফেলেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার আজ পর্যন্ত সমাধান করতে পারেনি। অবশ্য অনেকে বলে রোহিঙ্গা সমস্যা তারা নিজেরাই জিয়ে রেখেছে। এটা দিয়ে তাদের লাভ হয়। পশ্চিমা বিশ্বের একটা সমর্থন পাওয়া যায়, এইড আসে, সাহায্য আসে, সেটা থেকে কিছু ভাগ-বাটোয়ারাও পাওয়া যায়। অন্যদিকে সীমান্তে মানুষ হত্যা করা হয়, সেই হত্যা বন্ধ করার জন্য কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। সীমান্ত দিয়ে যে নদীগুলো ভারত থেকে এদের দেশে এসেছে সেই নদীগুলোর পানির কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত পাইনি। তিস্তা নদীর পানির ব্যবস্থা করা যায়নি। অথচ ফেনী নদীর পানি দিয়ে দেয়া হয়েছে। কানেকটিভি দিয়েছে, পোর্ট ব্যবহার করতে দিয়েছে। সবকিছু দিয়ে দেয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। অত্যন্ত অসুস্থ। ২৫ ফেব্রুয়ারীতে যে ব্লাড পরীক্ষা করা হয়েছে, সেখানে দেশনেত্রীর ফাস্টিং সুগার ১৮ দশমিক ৫ ছিল। নিয়মিত সুগার এই মাত্রায় হলে তা হার্ট, কিডনিসহ লাংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এই সরকার এতই প্রতিহিংসাপরায়ণ যে, তারা খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন পর্যন্ত দিচ্ছে না। তিনি বলেন, পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ডাক্তারদেরকে এদেশের মানুষ শ্রদ্ধা করে, তাদের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঠিক রিপোর্ট দিতে পারলেন না। সরকার তাদেরকে বাধ্য করেছে সঠিক রিপোর্ট না দেয়ার জন্য। দুর্ভাগ্য যে, বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালত সঠিক বিচার করতে পারেন না। কারণ এখানে আজকে একনায়কতন্ত্রের ফ্যাসিবাদি রাষ্ট্রব্যবস্থার শাসন চলছে।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, লুটেরা এই সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেই কারণে জোর করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বন্দুক-পিস্তল দিয়ে ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখ করে দিয়ে সে ক্ষমতা দখল করে আছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলাদেশের সম্পদকে লুট করে বিদেশে পাচার করা। কিন্তু জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে, অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
আবদুল মঈন খান বলেন, এই সরকার বিদ্যুত -পানি-গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, মানি লন্ডারিং করেছে, তারা দুর্নীতির মাধ্যমে দরিদ্র জনগণের ট্যাক্সের টাকা সরিয়ে নিয়েছে। যে প্রজেক্ট করতে ১শ’ কোটি টাকা লাগে, মেগা প্রজেক্টের নামে সেই প্রজেক্টের নামে তারা ১ হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে। বাকি ৯শ কোটি টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে জনগণ সেটা জানতে চায়। এই সরকার বিনা ভোটের সরকার, তারা জনপ্রতিনিধিত্ববিহীন সরকার। তারা এদেশের মানুষকে লুটেপুটে খাচ্ছে। এই সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার কায়েম করতে হলে সবাইকে রাজপথে থাকতে হবে। রাজপথে আছি, রাজপথে থাকব- এটাই হোক আজ আমাদের শপথ।