admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ১:২০ অপরাহ্ণ
ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস পালনে বাধা করোনা। প্রতিবছর ১ কার্তিক আড়ম্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস পালন করা হয়। কিন্ত এবারের আয়োজনে বাধা করোনা। স্থগিত করা হয়েছে তিরোধান দিবসের সব আয়োজন। অনুষ্ঠান না হাওয়ায় হতাশ লালন ভক্ত ও অনুরাগীরা। বছরের এই সময় মাজার প্রাঙ্গণ লালন শাহের সাধু-ভক্তের পদচারণায় মুখর থাকলেও এবার তা একেবারেই ফাঁকা। দু-একজন বাউল সাধক বিচ্ছিন্নভাবে আসলেও মাজারে ঢুকতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
সরেজমিন ছেঁউড়িয়ায় ঘুরে দেখা যায়, মাজারের প্রবেশদ্বার তালাবদ্ধ। ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না। অনেকে আবার মাজার প্রাঙ্গণ তালাবদ্ধ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী ১ কার্তিক (১৭ অক্টোবর) লালনের ১৩০তম তিরোধান দিবসের সব আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করেছেন কুষ্টিয়া লালন একাডেমি। ৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত অবস্থায় আছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে যদি বড় ধরনের গণজমায়েত করা হয়, তাহলে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় লালনের মাজার প্রাঙ্গণে প্রতি বছরের মতো এ বছর বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস পালন করা সম্ভব নয়।
মুঠোফোনে এক সাক্ষাতকারে সিরাজগঞ্জে অবস্থানরত লালন শাহীর এক অনুসারী মোঃ তারিকুল ইসলাম তারা মুক্ত কলমকে বলেন আমি একজন সরকারি কর্মকতা অপর দিকে লালন ভক্ত। সরকারি সিদ্ধান্তকে সন্মান জানাই, তিনি আরও বলেন করোনাভাইরাসের কারণে উক্ত ১৩০তম তিরোধান দিবস উদযাপন হচ্ছেনা বলে তিনি ব্যথিত।
সঙ্গত, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই স্মরণোৎসব চালিয়ে আসছে। অনেক ভক্ত মুক্ত কলমকে জানান যদি স্বল্প আকারে উক্ত দিবসটি আয়োজন করা যেত তাহলে ভালো হতো। আগামিতে তিরোধান দিবস পালনে বাধা থাকবেনা বলে ভক্তকুল মনে করেন।