admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারলেন নৌকায়, অভিযুক্ত পুলিশও। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ, ইউপি নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যালটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের বিরুদ্ধেও নৌকায় ভোট দিতে সহযোগিতার অভিযোগ মিলেছে। বুধবার ঢাকার আশুলিয়ায় একটি কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। আশুলিয়া ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী হেলাল বেপারী অভিযোগ করেন, আশুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন হারুন উর রশিদ। তার কক্ষে গেলে নির্বাচনের ব্যালটে একজন প্রার্থীর প্রতীকে তাকে সিল মারতে দেখা যায়।
আরো কয়েকজনকে নিয়ে তিনটি ব্যালট বইয়ে সিল মারছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নন, তার সামনে শতাধিক ব্যালটে আওয়ামী লীগের লোকজন নৌকায় সিল মেরেছেন। তারা এসে জোর করে ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে যায়, সিল মারতে বারণ করলেও তারা শোনেনি।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সময় পাননি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, যেসব ব্যালটে সিল মারা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করার ব্যবস্থা করা হবে। এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাননি এই নির্বাচনী কর্মকর্তা। এদিকে, আশুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে সহযোগিতার অভিযোগ মিলেছে। জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ভোট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সেখানকার কয়েকজন প্রার্থী ও ভোটাররা। ইউনিয়নটির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল উদ্দিন মাদবর বলছেন, নৌকায় ভোট দিতে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করেছে পুলিশ, সে জন্য এই কেন্দ্রের ভোট বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এই কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে জোর করে সিল মারা হয়, জাল ভোট দেয়া হয়।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা রিজার্ভ ফোর্সের এসআই মফিজুর রহমান বলেন, এটা অসম্ভব! কে কী বলল, তা দেখার বিষয় নয়। আমারা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওই ইউপির নৌকার প্রার্থী শাহাবুদ্দিন মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগের সব রকমের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। তবে ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, তারা পুরো পরিস্থিতি দেখছেন। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ করাই এখন তাদের প্রধান কাজ। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা।