admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২০ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
করোনাভাইরাসের একটা প্রতিষেধক বাংলাদেশে পরীক্ষা করা হবে, এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এত মাথাব্যথা কেন প্রশ্ন করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চক্রান্তকারী ও ভূতের প্রবেশ ঘটেছে। ঠিক যেভাবে এতদিন ধরে তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠরোধ করে রেখেছ পুঁজিবাদের ধারক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো।
অতীতে ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) গবেষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সে সময় গবেষণার ক্ষেত্রে তো কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। তাহলে এখন চীনের এই করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা নিয়ে এত আপত্তি কেন? এখানে আপত্তির কারণ- এই গবেষণার সঙ্গে ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা জড়িত রয়েছে, জনগণের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জড়িত রয়েছে। চীনের এই করোনা প্রতিরোধী প্রতিষেধক যদি একবার ট্রায়ালে সফল হয়ে যায়, তাহলে আমাদের অনেক অর্থ বেঁচে যাবে।
তিনি আরো বলেন, একটি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন পড়ে। এর পেছনে অনেক সময়ও ব্যয় করতে হয়। অথচ গবেষণা সফলের পর একবার ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হলে এর মূল্য অনেক কমে যায়। তাই বাংলাদেশের উচিত, সক্রিয়ভাবে চীনের এই করোনার প্রতিষেধক ট্রায়ালে অংশ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করা যেতে পারে, যে গবেষণা সফল হলে প্রতিশেধকটির ৫০ শতাংশের মালিক হবে বাংলাদেশ। এতে মানবকল্যাণও হবে, আবার দেশের জনগণের স্বার্থও রক্ষা করা হবে।
গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি আরো বলেন, বাংলাদেশে চীনের ভ্যাকসিন গবেষণা না করতে দেওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত রয়েছে। আমাদের এই চক্রান্তের বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা প্রয়োজন। বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনা করে আন্তর্জাতিক এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে প্রতিষেধক পরীক্ষার অনুমতি দেওয়ার মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। তারা ইতোমধ্যে চীনের প্রতিষেধকটি পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ এতে আপত্তি তুলে গবেষণা বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে প্রমাণ হয় যে, আন্তর্জাতিক এ চক্রান্তের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক চক্রান্তের চর ও দালালরা বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। তাই এখনই দেশের জনগণকে বিষয়টি বোঝাতে না পারলে আগামীতে বাংলাদেশে করোনার ওষুধ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে মনে করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।