admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২০ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার এলাকার সাদ্দাম হোসেন নামের এক যুবককে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী গোল চেহের নিহত সাদ্দাম হোসেনের মা এবং ওই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের স্ত্রী। আদালতে মামলার আবেদন করার পর সেটি আমলে নেন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ (টেকনাফ) এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি মামলাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা দ্বারা তদন্তের জন্য সিআইডিকে আদেশ দেন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত শেষে করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নং আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানকে। এছাড়া মামলায় অভিযুক্ত ২৮ জনের মধ্যে ২৭ জনই পুলিশ সদস্য। অন্যজন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নূরুল আমিন নুরুল্লাহ। মামলার অপর আসামিরা হলেন- হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুর রহমান, অরুণ কুমার দে, সুজিত চন্দ্র দে, মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, কামরুজ্জামান, নাজিম উদ্দিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কাজী সাইফুদ্দিন, আমির হোসেন, নাজিম উদ্দিন, মাযহারুল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন, নঈমুল হক, মিশকাত উদ্দিন, রাম চন্দ্র দাশ, রুবেল শর্মা, সাগর দেব, আবু হানিফ, মো. আজিজ, মো. শরীফুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. বোরহান, আব্দুস শুক্কুর, শেকান্দর ও মহিউদ্দিন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মামলার বাদী গোল চেহেরের দুই সন্তান সাদ্দাম হোসেন ও মো. জাহেদ। গত ৪ জুলাই সকালে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদের দুইজনকে বাড়ির অদূরে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের ছাড়াতে পুলিশ ফাঁড়িতে যান তাদের মা গোল চেহের। এজাহারে আরো বলা হয়, সাদ্দাম ও জাহেদকে ছাড়ার জন্য পুলিশ তাদের মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ না দিলে দুইজনকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়। পরে গোল চেহের ওইদিনই ৩ লাখ টাকা ইনচার্জ মশিউর রহমানের হাতে দেন।
পরে আরো ২ লাখ টাকা মশিউর রহমানের পাঠানো বাহক দফাদার নূরুল আমিন নুরুল্লাহকে দেন। এই ৫ লাখ টাকার বিনিমেয়ে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ একটি মামলায় মো. জাহেদ হোসেনকে আদালতে পাঠিয়ে দেয়। আর সাদ্দাম হোসেনকে গত ৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ির কাছে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করে।
আরো বলা হয়, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ মশিউর রহমান, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও মামলার তিন নম্বর আসামি আরিফুর রহমানের নির্দেশে পুলিশের অন্য সদস্যরা তার ছেলেকে হত্যা করেছে। এর কিছুদিন আগে একইভাবে তার স্বামী সুলতান আহমদকেও বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করে পুলিশ।