হোম
আন্তর্জাতিক

সিঙ্গাপুর ভ্রমণ কিভাবে যাবেন, কেমন খরচ, কি কি দেখবেন ও অন্যান্য তথ্য প্রতি শুক্রবার আমরা চেষ্টা করি দর্শণীয় স্থান গুলো তুলে ধরতে

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২০ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

Singapore-visit-mknewsbd

ফাইল ছবি

নামকরণঃ
সিঙ্গাপুর নামটি আসে মালয় ভাষার Singaporean সিঙ্গাপুরা থেকে। সিঙ্গাপুরা শব্দটি আসে সংস্কৃত ভাষা सिंहपुर সিঁহাপুরা থেকে, যার বাংলা অনুবাদ সিংহপুর ।

রাজনীতিঃ
একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় সঙ্ঘটিত হয়। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। দেশটিতে মূলত একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব বেশি। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার ও আইনসভার দায়িত্বে পড়ে। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন। আইনসভার সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার ভূমিকা মূলত আলংকারিক। তবে ইদানিং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পরিসর কিছু বাড়ানো হয়েছে।

১৯৫৯ সালের নির্বাচন থেকে সিঙ্গাপুরের রাজনীতিকে পিপল্‌স অ্যাকশন পার্টি নামের রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। একাধিক বিরোধী দল উপস্থিত থাকলেও ক্ষমতায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। তাই অনেক বিদেশী পর্যবেক্ষক সিঙ্গাপুরকে কার্যত একটি এক-দলীয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করে থাকেন। তবে সিঙ্গাপুরের সরকার সবসময়েই একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত সরকার হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে সিঙ্গাপুর বহুদিন ধরেই এশিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ ভূগোলঃ
সিঙ্গাপুর একটি ক্ষুদ্র ও ব্যাপকভাবে নগরায়িত দ্বীপরাষ্ট্র। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপের দক্ষিণতম প্রান্তে, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের স্থলভূমির মোট আয়তন ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার। এর তটরেখার দৈর্ঘ্য ১৯৩ কিলোমিটার। এটি মালয়েশিয়া থেকে জোহর প্রণালী এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ডটি একটি হীরকাকৃতি দ্বীপ, তবে এর প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ অবস্থিত। এদের মধ্যে পেদ্রা ব্রাংকা নামের দ্বীপটি সিঙ্গাপুর থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের সীমানার অন্তর্গত কয়েক ডজন ক্ষুদ্রাকার দ্বীপের মধ্যে জুরং দ্বীপ, পুলাউ তেকোং, পুলাউ উবিন ও সেন্তোসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বড়।

সিঙ্গাপুর দ্বীপের বেশিরভাগ এলাকা সমুদ্র সমতল থেকে ১৫ মিটারের চেয়ে বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয়। সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ বিন্দুটির নাম বুকিত তিমাহ; এটি সমুদ্র সমতল থেকে ১৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গ্র্যানাইট পাথরে নির্মিত একটি শিলা। সিঙ্গাপুরের উত্তর-পশ্চিমে আছে পাললিক শিলা দ্বারা নির্মিত ছোট ছোট টিলা ও উপত্যকা, অন্যদিকে পূর্বভাগ মূলত বালুময় সমতল ভূমি দিয়ে গঠিত। সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক হ্রদ নেই, তবে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর প্রশাসন সমুদ্রতলের মাটি, পর্বত ও অন্যান্য দেশ থেকে মাটি সংগ্রহ করে দেশটির স্থলভাগের আয়তন বৃদ্ধি করে চলেছেন। ১৯৬০-এর দশকে দেশটির আয়তন ছিল প্রায় ৫৮২ বর্গকিলোমিটার, বর্তমান এটি ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার এবং ২০৩৩ সাল নাগাদ এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে আরও ১০০ বর্গকিলোমিটার

জলবায়ুঃ
সিঙ্গাপুর বিষুবরেখার মাত্র ১ ডিগ্রী উত্তরে অবস্থিত বলে এখানকার জলবায়ু নিরক্ষীয় প্রকৃতির।

অর্থনীতিঃ
১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পূর্বে সিঙ্গাপুর ব্রিটিশদের অধীনে একটি ক্রাউন কলোনি ছিল ।  এই দ্বীপটি পূর্ব এশিয়াতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ছিল । ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি থাকার কারণে সিঙ্গাপুরকে তখন জিবরালটার অব দা ইস্ট  বলা হত । ১৮৬৯ সালে সুয়েজ ক্যানাল খোলার পর ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে সমুদ্র বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় , ঠিক তখনই সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের প্রধান সমুদ্র বন্দর হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয় । ১৯৬৫ সালে অর্থাৎ স্বাধীনতা লাভের বছরে এই দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৫১৬ মার্কিন ডলার । এই ৫১৬ ইউ.এস. ডলার ছিল তখন পূর্ব এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ । স্বাধীনতার পরে ইউরোপ থেকে বিনিয়োগ আসার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়া শুরু করে । আশির দশকের মাঝখান দিকে এই দেশটি উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে । জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে সিঙ্গাপুরের অবস্থান বিশ্বে নবম। সিঙ্গাপুর আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। আয়তনে এটি কোনো নগরাঞ্চলের সমান হলেও এর জিডিপি ভারতের দিল্লি , মুম্বাই ও ব্যাঙ্গালুরুর সমষ্টিগত জিডিপির সমতুল্য।

জনসংখ্যাঃ
সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ।

সংস্কৃতিঃ
সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতি পশ্চিমা ঘরানার হলেও এখানে ইসলামবাদ (মালয় সংস্কৃতি) হিন্দুবাদ, খ্রিষ্টানবাদ , এবং বৌদ্ধবাদ (চাইনিজ সংস্কৃতি) আছে ।

ভাষাঃ
সিঙ্গাপুরের ৪টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে। এগুলি হল: ইংরেজি, মালয়, চীনা মান্দারিন এবং তামিল। সাধারন ভাষা হিসেবে এখানে ইংরেজিই প্রচলিত। এছাড়াও ব্যাবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সরকারি কর্মকান্ডে প্রধানত ইংরেজিই ব্যবহৃত হয়। সিঙ্গাপুরের প্রায় ৮০% লোক ইংরেজিতে,৬৫% লোক মান্দারিন,১৭% লোক মালয় এবং ৪% লোক তামিল ভাষায় কথা বলে থাকে। মালয় ভাষী প্রতিবেশী রাষ্ট্র মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সাথে বৈপরীত্যতা এড়াতে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৬০ সালে সিঙ্গাপুর সরকার মালয়কে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় সঙ্গীতও মালয় ভাষাতে রচিত।

শিক্ষাঃ
সিঙ্গাপুরের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রধানত রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত। একই সাথে বেসরকারি উদ্যোগ এবং অবস্থানও সেখানে স্বীকৃত। তবে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার পূর্বে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধিত হতে হয়। এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা ইংরেজি মাধ্যম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান, পরীক্ষাগ্রহণ সবকিছুই ইংরেজিতে পরিচালিত হয়। সিঙ্গাপুরে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় – এ তিনটি স্তরে সিঙ্গাপুরের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সিঙ্গাপুরে ৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যার মধ্যে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবং নানইয়াং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি বিশ্বের সেরা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম। মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশ্বব্যাপী সিঙ্গাপুরের সুনাম রয়েছে। বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক এ এই দেশ বিশ্বে ৮ম স্থানে রয়েছে। এশীয় অঞ্চলে যা সর্বোচ্চ।

মাত্র ৪০ থেকে ৫০ বছরের ব্যাবধানে অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ থেকে একটি পরিপূর্ণ উন্নত দেশে পরিণত হয়ে সিঙ্গাপুর একটি চমক সৃষ্টি করেছে। ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্ত সিঙ্গাপুর ছিল অগোছালো, নিয়ন্ত্রনহীন এবং সংঘাতে পরিপূর্ণ একটি দেশ। কিন্তু তাঁরা সেখানে থেমে থাকেনি। যুগোপযোগী পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে তাঁরা আজ নিজেদের দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা এখন বিভিন্নও দেশের পর্যটকদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণের নাম। আমাদের আজকের ব্লগে আমরা সিঙ্গাপুর ভ্রমণের বিভিন্নও দিক নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি তাদের এই যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়েও কিছু কথা বলব।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিকঃ

সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে সেন্ডসের টেরেস মালয় ভাষা, চীনা ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, ইংরেজি ভাষা এবং তামিল যৌথভাবে সিঙ্গাপুরের সরকারি ভাষা। এছাড়াও এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে জাপানি ভাষা, কোরীয় ভাষা, মালয়ালম ভাষা, পাঞ্জাবি ভাষা এবং থাই ভাষা উল্লেখযোগ্য। ইংরেজি ভাষা সার্বজনীন ভাষা বা লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডেও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

ধর্মালম্বীঃ
মূল নিবন্ধ: সিঙ্গাপুরের ধর্মবিশ্বাস সিঙ্গাপুরের ধর্মালম্বী

ধর্ম শতাংশ বৌদ্ধ  ৩৫.৪% । ইসলাম  ২২% ।  নিরীশ্বরবাদী  ১৪.৮% । খ্রিস্টান  ১৪.৬% । তাও ধর্ম  ৮.৫% । হিন্দু  ৫ % অন্যান্য

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং ধুঁকতে থাকা সিঙ্গাপুরঃ
মূলত ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু তখনও তাঁরা মালয়েশিয়ার অন্তর্ভুক্তই ছিল। মতের মিল না হওয়ায় ১৯৬৫ সালে তারা মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হয় এবং নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠা করে। সেসময় সিঙ্গাপুরকে নিয়ে বলার মত কিছুই ছিল না। সিঙ্গাপুরের পরিচয় ছিল একটি মাছ ধরা কেন্দ্র হিসেবে। তখনকার বেশিরভাগ মানুষ ছিল অশিক্ষিত এবং মাছ ধরাই ছিল তাদের জিবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের দেশটি ছিল এক কথায় অপরাধ ও দারিদ্রতায় জর্জরিত একটি মৎস্য ব্যাবসা কেন্দ্র।

সিঙ্গাপুর অতীত বনাম বর্তমান

সিঙ্গাপুর অতীত বনাম বর্তমানঃ
সিঙ্গাপুরের অতীত এবং বর্তমানের একটি তুলনামূলক চিত্র ক্ষুদ্র এই নগর রাষ্ট্রের উল্লেখ করার মত কিছুই ছিল না। প্রাকৃতিক সম্পদই দেশের উন্নয়নের একমাত্র চাবি কাঠি, এই কথায় যারা বিশ্বাস করেন তাদের জন্য বলছি, সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক সম্পদ ছিলনা বললেই চলে। মালয় এবং চীনাদের ভিতরের কোন্দলের কারণে আইন শৃঙ্খলার অবস্থাও ছিল বেশ খারাপ। এক কথায় তখনকার সিঙ্গাপুর আর এখনকার সিঙ্গাপুরের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ ছিল। তখন কেউ চিন্তাও করেনি যে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে সিঙ্গাপুর কখনও উন্নত দেশের তালিকায় নাম লেখাতে পারবে।

সিঙ্গাপুরের ঘুরে দাঁড়ানোঃ
এই বিপর্যয় সামলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব যার কাধে পরে তিনি হলেন সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রি লি কুয়ান। তাঁকে বলা হয় আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক। ১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশকে পৃথক করতে লি কুয়ান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর পর শক্ত হাতে দেশের হাল ধরেন। তাঁর আপ্রান চেষ্টায় এবং বুদ্ধিমত্তায় ধীরে ধীরে সিঙ্গাপুর আলোর পথে হাটা শুরু করে। তিনি প্রথমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনেন। এর পর তিনি দেশের একমাত্র সম্পদ জনসংখ্যাকে কাজে লাগানোর বিস্তর পরিকল্পনা গ্রহন করেন। তিনি মানুষের সততাকে সব চাইতে বেশী মুল্যায়ন করতেন, এমনি মেধার চাইতেও বেশী। তাঁর কাছে মনে হয়েছে, মানুষের সকল শিক্ষা ও মেধার কোন মুল্যই নাই যদি না সে সৎ হয়। ফলস্বরূপ কয়েক বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার কমে মাত্র ৩ শতাংশে চলে আসে, প্রবৃদ্ধি বেড়ে যায় প্রায় ৮ শতাংশ। কু ওয়ানের দূরদর্শিতায় ৮০’র দশেকই সিঙ্গাপুর কম্পিউটার যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করে। দেশে পর্যটকদের আগমনকে উৎসাহিত করার জন্যে ১৯৮১ সালে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট উম্মুক্ত করা হয় এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সিঙ্গাপুরের পরিবেশ ও ভ্রমণঃ
সমস্ত দুর্দশাকে পিছনে ফেলে সিঙ্গাপুর আজ পৃথিবীর ২২ তম ধনি দেশ। সিঙ্গাপুরের জীবন যাত্রার মান উন্নতির দিক থেকে এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ। এখানকার ৮৩ শতাংশ মানুষই উন্নত হাউজিং এস্টেটে বসবাস করে। এসব পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে সিঙ্গাপুর আজ ইউরোপের কোন উন্নত রাষ্ট্রের চাইতে কোন অংশে কম না।

উন্নত সিঙ্গাপুরের যে কয়েকটি বিষয় আপনাকে বেশী মুগ্ধ করবে তার মধ্যে একটি হল রাস্তা ঘাটে নারীদের অবাধ এবং নিরাপদ চলাচল। অত্যন্ত কার্যকর আইন আছে এই বিষয়ে। কোন পুরুষ যদি কোন নারির দিকে অশোভন দৃষ্টিও দেয়, তাহলে সেই নারী তখনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে। তৎক্ষণাৎ এমন ভাবে ব্যাবস্থা নেয়া হবে যে ওই পুরুষ আর ওই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করার সাহস করবে না। এসব ব্যাপার দেখার জন্যও নগরীর রাস্তা ঘাটে ছড়িয়ে থাকে অসংখ্য সাদা পোশাকের পুলিশ।

আরেকটি চমৎকার ব্যাপার হল এখানকার পরিচ্ছন্নতা। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি তা করে তাহলে তাকে শাস্তি হিসেবে ১ দিন ওই এলাকার ঝাড়ুদারের দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিতে হয়! পুরোপুরিভাবে দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত একটি দেশ ভ্রমণ করতে কার না ইচ্ছা করে! ইউরোপ ভ্রমণের স্বাদ পেতে ইচ্ছা হলে কম খরচে সিঙ্গাপুর একটা চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। এজন্যে বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর বিভিন্নও দেশের পর্যটকদের কাছে সিঙ্গাপুর একটি জনপ্রিয় নাম। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক সিঙ্গাপুর ভ্রমণ সম্পর্কে কিছু তথ্য।

কখন বেড়াতে যাবেন সিঙ্গাপুরঃ
দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরে তাপমাত্রা এবং আদ্রতা দুইই বেশী থাকে প্রায় সারা বছরই। একারণে বছরের যেকোনো সময়েই আপনি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে পারেন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সবচাইতে বেশী পর্যটক সমাগম ঘটে সিঙ্গাপুর এ। এই সময় গেলে আপনি অনেক উৎসব এবং ইভেন্টে যোগ দিতে পারবেন। এর মধ্যে বিখ্যাত সিঙ্গাপুর সেল ফেস্টিভাল ( বিক্রয় উৎসব) আর ফুড ফেস্টিভাল অন্যতম। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময়ে ভিড় কম থাকে এবং আবহাওয়া বেশ নাতিশীতোষ্ণ থাকে। সিঙ্গাপুরে বর্ষাকাল থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। যদি বৃষ্টি এড়াতে চান তাহলে এই সময়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ না করাই ভাল হবে।

কিভাবে যাবেন সিঙ্গাপুরঃ
ঢাকায় সিঙ্গাপুরের কনস্যুলেট আছে ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকে সিঙ্গাপুরের ভিসা দেয়া হয় না। ভিসার জন্যে বেশ কিছু অনুমোদিত এজেন্ট আছে, সেখান থেকে ভিসা করে নিতে পারেন। ভিসা পেতে হলে আপনাকে অবশই সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত কারও কাছ থেকে আমন্ত্রন পেতে হবে। ভিসা ফি ৩০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার।

সিঙ্গাপুর ভিসা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিজিট করুনঃhttps://web.archive.org/web

সিঙ্গাপুর প্রজাতন্ত্র
Republik Singapura  (মালয়)
新加坡共和国 (চীনা)
சிங்கப்பூர் குடியரசு (তামিল)
সিঙ্গাপুরের জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্য: 
“Majulah Singapura” (মালয়)
(বাংলা: “সিঙ্গাপুর এগিয়ে চলো”)
সঙ্গীত: মাজুলাহ সিংগাপুরা
(বাংলা: “সিঙ্গাপুর এগিয়ে চলো”)

মেনু
0:00

 

 সিঙ্গাপুর-এর অবস্থান (red)

 সিঙ্গাপুর-এর অবস্থান (red)
রাজধানী সিঙ্গাপুর (নগররাষ্ট্র)
১°১৭′ উত্তর ১০৩°৫০′ পূর্ব
বৃহত্তর পরিকল্পনা অঞ্চল বেদক[১]
১°১৯′২৪.৯৭″ উত্তর ১০৩°৫৫′৩৮.৪৩″ পূর্ব
সরকারি ভাষা
সরকারী লিপিসমূহ
জাতিগোষ্ঠী

ধর্ম

জাতীয়তাসূচক বিশেষণ সিঙ্গাপুরি
সরকার একক একদলীয় আধিপত্যমূলক সংসদীয় প্রজাতন্ত্র
হালিমা ইয়াকুব
লি সিয়েন লুং
আইন-সভা সংসদ
আয়তন
• মোট
৭১৯.৯ বর্গকিলোমিটার (২৭৮.০ বর্গমাইল)[৩] (১৭৬তম)
জনসংখ্যা
• ২০১৬[৩] আনুমানিক
৫৬,০৭,৩০০ (১১৩তম)
• ঘনত্ব
৭,৭৯৭ প্রতি বর্গকিলোমিটার (২০,১৯৪.১ প্রতি বর্গমাইল) (৩য়)
জিডিপি (পিপিপি) ২০১৮[৪] আনুমানিক
• মোট
$৫৩৭.৪৪৭ শত কোটি (৩৯তম(2017))
• মাথাপিছু
$৯৩,৬৭৮ (৩য়(২০১৭))
জিডিপি (মনোনীত) ২০১৮[৪] আনুমানিক
• মোট
$৩১৬.৮৭২ শত কোটি (৪১তম(২০১৭))
• মাথাপিছু
$৫৫,২৩১ (১০ম(২০১৭))
গিনি (২০১৪) 46.4[৫]
উচ্চ · ৩০তম
এইচডিআই (২০১৫) 0.925[৬]
অতি উচ্চ · ৫ম
মুদ্রা সিঙ্গাপুরি ডলার (SGD)
সময় অঞ্চল ইউটিসি+8 (SST)
তারিখ বিন্যাস দিদি-মামা-বববব
গাড়ী চালনার দিক বাম
কলিং কোড +65
আইএসও ৩১৬৬ কোড SG
ইন্টারনেট টিএলডি

 

বিমান টিকিট সংক্রান্ত তথ্যঃ

ঢাকা থেকে বিমানে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। সরাসরি অথবা ওয়ান স্টপ ফ্লাইট পাবেন। জেট এয়ার ওয়েজ, মালিন্দ এয়ার, বিমান বাংলাদেশ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স ইত্যাদি বিভিন্নও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার বিমানে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ পরবে ১৭,৬৪০ টাকা থেকে ২১,২২২ টাকা। দেশীয় বিমান সংস্থার মধ্যে রিজেণ্ট এয়ারলাইন্স, ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স, ও বাংলাদেশ বিমানে যেতে পারবেন। খরচ পরবে ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। ভাল হবে যদি যাত্রার মাস খানেক আগে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখেন। সেক্ষেত্রে খরচ কিছুটা হলেও কমবে। তবে বিমান টিকিট করার জন্য বিমান সংস্থার অফিস কিংবা ট্রাভেল এজেন্সিতে দৌড়ানোর প্রয়োজন হবে না। ঘরে বসে খুব সহজেই যেকোন গন্তব্যের টিকিট কাটতে পারেন এই

কি দেখবেন সিঙ্গাপুরে
সিঙ্গাপুর আয়তনে বেশ ছোট একটি দেশ। মাত্র ৭১৬ বর্গ কিলোমিটারের ছোট নগর রাষ্ট্র হবার কারণে পর্যটকরা একটা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। সেটি হল, খুব দূরে কোথাও না গিয়েও অনেক কিছু দেখে ফেলা সম্ভব। তবে তাঁর মানে এই না যে সিঙ্গাপুরে দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা কম! ট্রাফিক জ্যাম মুক্ত ঝকঝকে নগর রাষ্ট্রটিতে উপভোগ করার মত অনেক উপকরণই রয়েছে। আপনাদের সুবিধার জন্য এরকম কিছু স্থান নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। দেখে নিতে পারেন সিঙ্গাপুরের চমৎকার সব স্থান গুলো নিয়ে এই ভিডিওটি

সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানাঃ

সিঙ্গাপুর

দেশের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা। সাধারণ চিড়িয়াখানা থেকে এর পার্থক্য হল, এখানে বন্য প্রাণীরা খাঁচায় আবদ্ধ থাকেনা। তাদের জন্য বিশেষ ভাবে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁরা সেখানে মুক্তভাবে বিচরন করে। একটি বন্য প্রাণীকে তাঁর উপযুক্ত পরিবেশে নিজের মত চড়ে বেড়াতে দেখার চাইতে চমৎকার আর কি হতে পারে। আপনার যদি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফির শখ থাকে তাহলে তা ইচ্ছা মত মিটিয়ে নিতে পারবেন এখান থেকে। প্রতিবছর প্রায় ১.৬ মিলিয়ন দর্শনার্থী এই চিড়িয়াখানা দেখতে আসেন। সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা প্রবেশ মুল্যঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ২০ ইউ এস ডলার, শিশু ৩ ডলার।  ঠিকানাঃ ৮০ মান্দাই লেক রোড, সিঙ্গাপুর ৭২৯৮২৬ সিঙ্গাপুর সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা। সুত্রঃ প্ল্যানেট রোভারস

নাইট সাফারীঃ

সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা, পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র নাইট সাফারী। নাইট সাফারীতে গভীর রাতে জঙ্গলের ভিতরের নানান পশুপাখিদের মাঝ দিয়ে ট্রামে করে পর্যটকরা বিচরণ করেন। বাঘ, হরিন, ভালুক, হাতি, উট, কুমির এ সাফারীর প্রাণিদের মধ্যে অন্যতম। এ সাফারীতে পশুপাখিরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়।

মারলায়ন পার্কঃ

সিঙ্গাপুর যাবেন আর মেরিলিয়ন পার্ক দেখবেন না, এ হতেই পারে না। এই স্থাপনাটিকে সিঙ্গাপুরের গর্ব এবং প্রতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মেরিলিয়ন এর মূর্তিটি ২৮ ফুট লম্বা। এর মাথা সিংহের এবং দেহ মাছের। এই মূর্তিটি দ্বারা সিঙ্গাপুরবাসি এটাই প্রমান করতে চায় যে মাছ ব্যাবসায়ি হিসেবে তাদের দেশের যে অতীত ইতিহাস, সেটা তাঁরা ভুলে যায়নি। এখান থেকে সমগ্র মেরিনা বে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সব মিলিয়ে জায়গাটার পরিবেশ অনেক চমৎকার।

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর মারলায়ন পার্ক।

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ারঃ

সিঙ্গাপুরের অনন্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে ফ্লাইয়ার অন্যতম। একে নির্দ্বিধায় পৃথিবীর বৃহত্তম নাগরদোলা বলা চলে। ২৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নিরমিত ১৬৫ মিটার উচ্চতার এই নাগরদোলাটি ২০০৮ সালে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। রাতের বেলা এই নাগরদোলায় চড়ে চমৎকার আলোকোজ্জ্বল সিঙ্গাপুরের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখার চাইতে রোম্যান্টিক আর কি হতে পারে! বিশেষ ব্যাবস্থায় আপনি ইচ্ছা করলে এই নাগরদোলায় থাকাকালীন অবস্থায় আপনার ডিনারটাও সেরে নিতে পারেন। এক কোথায় অপূর্ব কিছু অনুভুতি পাবেন এখানে।

সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে রাত ১০.৩০

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ৩৩ ইউ এস ডলার, শিশু ২১ ইউ এস ডলার

ফ্যামেলি প্যাকেজঃ ৭৮ ইউ এস ডলার।

ঠিকানাঃ ৩০ র‍্যাফেলস এভিনিউ।

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার।

সিঙ্গাপুর ইতিহাস যাদুঘর বা হিস্টোরি মিউজিয়ামঃ

সিঙ্গাপুরের আরেকটি চমৎকার দেখার মত জায়গা হল এর ইতিহাস যাদুঘর। সিঙ্গাপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হলে এই যাদুঘর দেখার বিকল্প নেই। চমৎকার মার্বেল পাথরে বাঁধানো সাদা রঙের একটি প্রাসাদের ভিতর এই জাদুঘরটি অবস্থিত। এখানে শুধু সিঙ্গাপুর না, বরং এশিয়ার বিভিন্নও দেশের ও সময়ের ঐতিহাসিক উপাদান যত্নসহকারে সংরক্ষিত আছে। বাচ্চাদের জন্য তাদের উপযোগী করে তৈরি করা আলাদা সেকশনও আছে।

সময়সীমাঃ সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ ইউ এস ডলার, শিশু, ছাত্র ছাত্রী ও বৃদ্ধ – ৫ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ৩০ মার্চেন্ট রোড, রিভার সাইড পয়েন্ট।

সিঙ্গাপুর মিউজিয়াম সিঙ্গাপুর হিস্টোরি মিউজিয়াম।

চায়না টাউনঃ

বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়না টাউন ঘুরে আসতে পারেন। অন্যান্য দেশের চায়না টাউনের মত এখানকার চাইনিজরাও অনেক আমুদ প্রিয়। ছোট ছোট অনেক দোকান পাবেন বিভিন্নও ধরনের মাল্ পত্রে ঠাসা। এখানে ঘুরতে ঘুরতে চাইনিজ হেরিটেজ সেন্টার টা দেখে ফেলতে পারেন। দেখতে পারেন চমৎকার শ্রী মারিয়াম্মান মন্দির।

সিঙ্গাপুর মিউজিয়াম

বুদ্ধের দন্ত সংরক্ষিত যাদুঘর বা টুথ রেলিক মিউজিয়ামঃ

সিঙ্গাপুর টুথ রেলিক মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরে অবস্থিত চায়না টাউনের কেন্দ্রস্থলে এই বিখ্যাত মন্দির ও যাদুঘরটি অবস্থিত। এই মন্দিরের চতুর্থ তলার অভ্যান্তরে ৩২০ কিলোগ্রাম সোনার স্তুপের উপর মহামতি বুদ্ধের একটি দাঁত সংরক্ষিত আছে। এটি দর্শনার্থীদের দেখার জন্যও উম্মুক্ত। প্রতি বছর হাজার হাজার বৌদ্ধ এখানে আসে। বৌদ্ধ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আসেন নির্দ্বিধায়। নিচতলায় দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে শাকাহার করানো হয়।

সময়সীমাঃ সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

প্রবেশমুল্যঃ বিনামূল্যে।

সিঙ্গাপুর টুথ রেলিক মিউজিয়াম
টুথ রেলিক মিউজিয়াম।

 

গার্ডেনস বাই দ্য বেঃ

সিঙ্গাপুর গার্ডেনস বাই দ্য বে

মেরিনা রিজারভেয়ারের একদম পাশেই ২৫০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে গার্ডেনস বাই দ্য বে নামের বিশাল এই পার্ক। তিনটি বৃহৎ ওয়াটার ফ্রন্ট বাগান নিয়ে এই বিশাল পার্ক গড়ে উঠেছে। এখানে হাজার প্রজাতির বিভিন্ন গাছ পালা ও লতা গুল্মের সমাহার আপনাকে মুগ্ধ করবে। শহুরে পরিবেশে যদি ক্লান্ত অনুভব করেন, তাহলে এখানকার শান্ত সবুজ পরিবেশে এসে দেহ মনকে সতেজ করে নিতে পারেন।

সময়সীমা সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা

প্রবেশ মুল্যঃ ২৮ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ১৮, মেরিনা গার্ডেনস ড্রাইভ।

সিঙ্গাপুর গার্ডেনস বাই দ্য বে
গার্ডেনস বাই দ্য বে।

 

 

র‍্যাফেলস হোটেলঃ

সিঙ্গাপুর র‍্যাফেলস হোটেল

এই হোটেলটি সিঙ্গাপুরের সবচাইতে পুরাতন ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম। হোটেলটি স্থাপিত হয় ১৮৮৭ সালে। অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তি এই হোটেলে থেকেছেন বিভিন্নও সময়ে। এর মধ্যে আছেন রুডইয়ার্ড কিপ্লিং, জোসেফ কনরাড, চারলি চ্যাপলিন এবং আরও অনেকে। এই হোটেলের সাথে সিঙ্গাপুরের অনেক ঐতিহ্য জড়িত। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই হোটেল আজ সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতির একটা অংশই হয়ে গেছে বলা যায়। এত দিন পরেও এই হোটেলটি এখনও চমৎকার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। খাবার দাবারও অনেক মানসম্মত। তাই এখানে এলে এক ঢিলে অনেক পাখিই মারতে পারবেন।

সিঙ্গাপুর র‍্যাফেলস হোটেলঃ

সেন্তোসা আইল্যান্ডঃ

সিঙ্গাপুর সেন্তোসা আইল্যান্ড

সিঙ্গাপুর সৈকতের জন্যও খুব একটা বিখ্যাত না। কিন্তু এর পরও যদি আপনার সৈকতে সময় কাটাতে ইচ্ছা করে সেক্ষেত্রে সেন্তোসা আইল্যান্ড একটা চমৎকার গন্তব্যও হবে। জল এবং স্থল উভয় পথেই এই ছোট দ্বিপে যেতে পারবেন। এখানকার সিলোসো সৈকত বেশ চমৎকার। এখানেই পাবেন বিখ্যাত মেরিলন এর মূর্তি। আরও দেখবেন সিলোসো দুর্গ এবং ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর।

সিঙ্গাপুর সেন্তোসা আইল্যান্ড সেন্তোসা আইল্যান্ডঃ

কোথায় থাকবেন সিঙ্গাপুর গেলে সিঙ্গাপুর ভ্রমনে গেলে অবশ্যই কয়েকদিন থাকতে হবে আপনাকে। যদি আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধব না থাকে, সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই হোটেলের খোজ খবর আগে থেকেই নিয়ে রাখতে হবে। সব থেকে ভাল হয় যদি অগ্রিম বুকিং দিয়ে যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে খরচও কিছুটা কমবে। আপনার সুবিধার জন্যে এরকম ভাল কিছু হোটেলের নাম ও ফোন নম্বর আমরা দিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া আরও খোজ নিতে চাইলে নিচের ওয়েব সাইটটি ব্যাবহার করতে পারেন। এখানে আপনার ভ্রমণের তারিখের যত গুলো হোটেল ফাকা থাকবে তার সব গুলোর লিস্ট পেয়ে যাবেন ট্রিপ অ্যাডভাইজার রেটিং সহ।

সিঙ্গাপুরের সেরা হোটেল এর লিস্ট
ইন্টার কণ্টীনেণ্টাল সিঙ্গাপুর +65 6338 7600

ফোর সিজন্স সিঙ্গাপুর +65 6734 1110

ম্যান্ডারিন ওরিয়েন্টাল +65 6338 0066

দ্য ফুলারটন হোটেল + 65 6733 8388

দ্য রিজ কার্লটন মিলেনিয়া +65 6337 8888

শাংরি লা হোটেল +65 6737 3644

নাউমি হোটেল +65 6403 6000

পার্ক রয়্যাল অন পিকারিং +65 6809 8888

সেন্ট রেজিস হোটেল +65 6506 6888

হোটেল ইণ্ডিগো সিঙ্গাপুর +65 6723 7001

আশা করব আমাদের তথ্য গুলো আপনাকে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। আপনার আনন্দময় এবং নিরাপদ সিঙ্গাপুর ভ্রমণ কামনা করে শেষ করছি।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় 12 hours আগে

সুনামগঞ্জে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ,বাইরে থেকে তালা মেরে বসত ঘরে আগুন, প্রাণনাশের
অপরাধ 14 hours আগে

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
রংপুর 18 hours আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেড
রংপুর 18 hours আগে

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান সেচ্ছায় বদলি নিলেল।
রংপুর 2 days আগে

চিরিরবন্দরে বাসের ধাঁক্কায় আরএফএল কোম্পানির এস আর রাকিব নিহত।
দুর্ঘটনা 2 days আগে

অন্ধকার নামতেই পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবর স্থানে শুরু হয়, লুটপাট, জুয়া
অপরাধ 2 days আগে

বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩২ কেজি গাঁজাসহ স্বামী ও স্ত্রী
অপরাধ 2 days আগে

দিনাজপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের হামলা।
অপরাধ 2 days আগে

পঞ্চগড়ে অধ্যক্ষের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ৮ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় ৫
দুর্ঘটনা 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক