গোলাম রব্বানী, হরিপুর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলাকে ডিজিটাল, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নন্দিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অক্সিজেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সংগঠনের সভাপতি মো. মোজাহেদুল ইসলাম ইমনের নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে উপজেলার উন্নয়নের জন্য ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এসব প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহঃ
১. হরিপুর উপজেলায় একটি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা।
২. হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট নিরসন।
৩. উপজেলার সকল রাস্তা, কালভার্ট ও সেতুর সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হরিপুর কারবালা মাঠ থেকে বটতলী হাটপুকুর পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ।
৪. উপজেলা প্রশাসনের শিশু পার্কের সবুজায়ন ও আধুনিকায়ন এবং শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়ন।
৫. নাগর নদীর ভিউ পয়েন্ট এলাকাকে ইকোপার্ক ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
৬. ঐতিহাসিক হরিপুর রাজবাড়ীর সংস্কার, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রত্নসম্পদ নিয়ে লোকস্মৃতি জাদুঘরের উন্নয়ন।
৭. নির্ধারিত স্থানে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ।
৮. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিত করা।
৯. সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মুক্তমঞ্চ নির্মাণ।
১০. কালীগঞ্জ-হরিপুর উপজেলা পরিষদ সড়কের ব্রিজসংলগ্ন জলাধার পুনঃখনন, সৌন্দর্যবর্ধন ও বসার স্থান নির্মাণ।
১১. হরিপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা।
১২. পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও খাস জমিতে বিপুল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ।
১৩. উপজেলা পরিষদের গেট সংস্কার এবং প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাগতম ও ধন্যবাদ গেট নির্মাণ।
১৪. বন বিভাগের কার্যক্রম সক্রিয়করণ, অধিক চারা উৎপাদন এবং ঔষধি গাছ চাষে উৎসাহ প্রদান।
১৫. উপজেলার যাত্রী ছাউনিগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন।
১৬. শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজন।
১৭. অতিথি পাখির অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা।
১৮. হাট-বাজারের পরিচ্ছন্নতা, পাবলিক টয়লেট, ডাস্টবিন স্থাপনসহ হাট ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং যাদুরাণী হাটকে পর্যটনবান্ধব ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
১৯. অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
২০. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রীড়া বিকাশে নতুন ক্রিকেট মাঠ নির্মাণ।
২১. নগরায়ণের কথা মাথায় রেখে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
২২. গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদার করা।
২৩. মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
২৪. কৃষি, ভূমি, স্বাস্থ্য, আইন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা।
২৫. সরকারি অফিস ও আইনশৃঙ্খলা সেবায় হয়রানি ও ঘুষমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা।
২৬. যুবসমাজের শারীরিক বিকাশে জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুল নির্মাণ।
২৭. প্রধান সড়কসমূহের সংস্কার ও সম্প্রসারণ, রাস্তার পাশে দেশীয় ছায়াবৃক্ষ রোপণ, খাস জমি উদ্ধার, খাল পুনঃখনন এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন।
সংগঠনের বক্তব্য:
স্মারকলিপিতে বলা হয়, উপরোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে হরিপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ঘটবে এবং পর্যটন, কৃষি ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে উপজেলার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অক্সিজেনের সভাপতি মো. মোজাহেদুল ইসলাম ইমন বলেন,
”হরিপুরের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য উপজেলা গড়ে তুলতে আমরা এই স্মারকলিপি প্রদান করেছি। উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্তবর্তী হরিপুর উপজেলার উন্নয়নের স্বার্থে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং হরিপুর একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সম্ভাবনাময় উপজেলায় পরিণত হবে।