মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এক ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সার অন্য ইউনিয়নে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দায়সারা আচরণ করা হয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট বিএডিসি ডিলার সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করেছেন, তবুও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সারগুলো অন্য উপজেলার হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের কৃষক ও সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জ্বল নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে দুইটি ভুটভুটিতে শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সার বহন করতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, সারগুলো উপজেলার কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাটে অবস্থিত বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাশেম এন্টারপ্রাইজ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রবিউল ইসলামকে মোবাইল ফোনে জানানো হলে তিনি বিষয়টি যাচাই করার আশ্বাস দেন। তবে পরে তিনি জানান, সারগুলো অন্য উপজেলার হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, পরে বিএডিসির ডিলার মেসার্স কাশেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম. এ. কাশেম মোবাইল ফোনে কৃষক ও সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সারগুলো তার মালিকানাধীন বলে স্বীকার করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করারও অনুরোধ জানান।
এ ঘটনায় উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সার ডিলার বলেন, এটি স্পষ্টতই সার চোরাকারবারির ঘটনা। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে সারের তেমন সংকট না থাকলেও কোনো ইউনিয়নে সংকট দেখা দিলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার লিখিত অনুমতির মাধ্যমে অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সরবরাহের বিধান রয়েছে। একইভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় সার স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার অনুমোদন এবং ডিলার-টু-ডিলার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
এ অবস্থায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সত্যটি কোনটি? ডিলারের স্বীকারোক্তি, নাকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি?
এ বিষয়ে মেসার্স কাশেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম. এ. কাশেম বলেন,সারগুলো আমার। আপনারা গণমাধ্যমকর্মী, আপনাদের কি কিছুই করার নেই? আমার জন্য হলেও ওই সারের ভুটভুটিগুলো ছেড়ে দেন।
অন্যদিকে, সারের ক্রেতা মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রওশন আলী খন্দকারের ছেলে সোহরাব হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, সারগুলো পাশের রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে তাদের দোকানে আনা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন বক্তব্য দেন এবং একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রবিউল ইসলামের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এগুলো বাইরের উপজেলার সার। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে আমি যতটুকু জেনেছি, সারগুলো অন্য উপজেলা থেকে আমাদের উপজেলায় এসেছে। তাই এ বিষয়ে আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষক, সার ডিলার ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই সার পরিবহন হয়েছে কি না এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।