মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বগুড়ার আদমদীঘি থানা এখন এক শ্রেণীর দালালদের প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে পরিণিত হয়েছে। থানায় যে কোন আইনি সেবা নিতে এসে প্রতারণা ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষকে। থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার পরোক্ষ মদদেই একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের মাধ্যমে বিচারের নামে গড়ে উঠেছে এক রমরমা বাণিজ্য এমন অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিচার কিংবা আইনি সহায়তার নামে থানায় চলে প্রকাশ্য অর্থ লেনদেন। এঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘোরপাক খাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি থানায় ছোট হোক বা বড় হোক যেকোনো অভিযোগ বা মামলা জমা দিতে গেলেই শুরু হয় নানা টালবাহানা। অভিযোগ তদন্তের নামে দু’পক্ষকে থানায় ডেকে হেনস্থা ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তারপর ওসির নির্দেশে কথিত আপস-মীমাংসার নাটক সাজিয়ে বিচারের নামে দুই পক্ষ থেকেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও দালাল চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দালাল চক্রদের দ্বারা শুরু হয় উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার নানা রকম হুমকি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহের ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শালিসের নামে ওসির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় কিছু দালাল ও এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা দু’পক্ষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দরদাম শুরু হয়। আর যার পকেট ভারী, তার পক্ষেই যায় থানার তথাকথিত রায়।
থানার পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসায়ী জানান, ”আদমদীঘি থানা এখন আর আইনি সেবার কেন্দ্র নেই। এটি এখন বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়ে গেছে। ওসির সবুজ সংকেত ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়েচড়ে না। আর ওসির ইশারা পেলেই দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় বহুগুণ। এর ফলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে সুবিচার পাওয়া তো দূরের কথা, অনেকে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরেন।
অনেকে আবার আইনি প্রতিকার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে নীরবে নিভৃতে এই জুলুম সহ্য করে আসছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা আদমদীঘি থানার এই দুর্নীতি ও বিচার বাণিজ্যের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আদমদীঘি থানায় এ ধরনের কাজ কখনোই হয় না। কিছু কিছু মানুষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।