admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২১ ৯:৪০ অপরাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু,স্টার্ফ রিপোর্টার, ঢাকা থেকেঃ আশুলিয়ার ভয়াবহ তাজরীন দুর্ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি হতাহতের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। এখনও সম্পন্ন হয়নি জড়িতদের বিচার। ২০১২ সালের ২৪ নাভেম্বর আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১১৩ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন শত শত শ্রমিক।
এ ঘটনার পর বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও এখনও বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন আহতদের অনেকেই। অগ্নিকান্ডে নিহতদের পরিবার ভোগ করছে স্বজন হারানোর বেদনা। পঙ্গু সদস্যদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছে অনেক পরিবার। এই ট্র্যাজেডিকে এখনও ভুলতে পারেনি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবার। তাই দিনটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে জন্য একটি ভয়াবহ স্মৃতি।
বুধবার সকালে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহতসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন তাজরীন গার্মেন্টস কারখানার প্রধান ফটকের সামনে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহত স্বজনদের অনেকে। তাজরীন ট্রাজেডিসহ সকল শ্রমিক হত্যাকান্ডের বিচার, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবির পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিদের দাবিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। গাজীপুর ও নিশ্চিন্তপুরে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা। এসময় ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণেই ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অবিলম্বে^ ক্ষতিপূরণ ও মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম মিন্টু বলেন, এটি কোন দুর্ঘটনা ছিল না বরং ছিল পরিকল্পিত ঘটনা। কারখানায় আগুন লাগার পরও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি না দিয়ে উল্টো সব গেইট বন্ধ করে দেয়। সেখানে আটকা পড়ে ১১৩ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যান। আহত হন অর্ধশত। তবে দুঃখের বিষয় ৯ বছরেও শাস্তি নিশ্চিত হয়নি দোষীদের। এখনও মানবোতর জীবনযাপন করছে পরিবারগুলো।
টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, প্রতিবারের মতোই দুর্ঘটনার নবম বছরে এসেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তারপরও এতদিনেও বিচার পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা। আমরা আবারও ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ মালিক দেলোয়ারের বিচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সেদিনের অগ্নিকান্ডে প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহত শ্রমিক মালেক বলেন, সেদিনের ভয়াবহতা চোখের সামনে এখনও ভেসে ওঠে। দিনটির কথা সবাই ভুলে গেলেও আমরা ভুলতে পারব না। আমরা তাজরীনের শ্রমিকরা সব দিক থেকেই বঞ্চিত। দুর্ঘটনার সময় প্রিয়জন, স্বজন, সহকর্মী ও হাত-পা হারিয়ে নয় বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। যা পেয়েছি সেটা কিছু আর্থিক সহায়তা, এটি ক্ষতিপূরণের জন্য সথেষ্ট নয়।
সরকার, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। এদিকে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে ও আশেপাশে বুধবার সারাদিন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।