admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২১ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
ইরানের একটি আদালত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। দেশের মুদ্রাব্যবস্থা লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়। একই অপরাধে ডেপুটি গভর্নরসহ আরো কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তেহরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র জবিউল্লাহ খোদায়েন শনিবার রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেন, মুদ্রাব্যবস্থা লঙ্ঘন ছাড়াও বিদেশি মুদ্রা পাচারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ সাইফের বড় ধরনের ভূমিকা ছিল।
একই অভিযোগে সাইফের তৎকালীন ডেপুটি আহমদ আরাগচিকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সব আসামি তাদের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলে জানান এই মুখপাত্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সময়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন সাইফ। আরাগচি ২০১৭ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তার ডেপুটি ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ২০১৬ সালে মুদ্রাবাজার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে সময় ইরানি রিয়ালের মূল্যমান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ব্যাপকভাবে কমে যায়। আসামিরা সে সময় অবৈধভাবে দেশের মুদ্রাবাজারে ১৬ কোটি ডলার এবং দুই কোটি ইউরো প্রবেশ করায়।এর ফলে আরাগচির সময়কালের শুরুতে ২০১৭ সালে বিনিময় হার ছিল ১ ডলারের বিপরীতে ৩৯ হাজার রিয়াল। কিন্তু ২০১৮ সালে তাকে বরখাস্ত করার সময় রিয়ালের বিনিময় হার ১ ডলারের বিপরীতে ১ লাখ ১০ হাজার রিয়ালে গিয়ে পৌঁছায়। এর জন্য অবশ্য ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও অনেকাংশে দায়ী ছিল।
২০১৫ সালে ইরানের সাথে ছয় জাতির চুক্তির সময় রিয়ালের দামে উন্নতি ঘটে। সে সময় এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যেত ২৭ হাজার রিয়াল। কিন্তু পরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এর ফলে আবারো ধসের মুখে পড়ে ইরানের মুদ্রা। মার্কিন ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানি দ্রুত হ্রাস পায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৪২ হাজার ২০০ রিয়াল।