admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের অতিপরিচিত প্রাণী শকুন এখন মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাণীটি রক্ষায় ব্যথানাশক কিটোপ্রোফেন জাতীয় ভেটেরিনারি ওষুধের উৎপাদন বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। বৈঠক শেষে এ বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, শকুনের সংখ্যা আমাদের দেশে খুবই ডেঞ্জারাসলি কমে গেছে, সংখ্যাটা খুবই বিপজ্জনক অবস্থায়। ৭০ সালের দিকে দেশে ৫০ হাজারের মতো শকুন ছিল, কিন্তু এখন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে মাত্র ২৬০টি শকুন আছে। তাও আবার ক্রিটিক্যালি অবস্থায় আছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিটোপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ব্যবহার। এই ওষুধ শকুনের মধ্যে গেলে তারা মারা যায়।তিনি আরো বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রাগ কোম্পানি ও এক্সপার্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। প্রস্তাবে তারা বলেছে যে, এই কিটোপ্রোফেন ওষুধ যদি বন্ধ না করা যায় তাহলে এ দেশে শকুন বাঁচানো যাবে না। সেজন্য তারা বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা, সভা-সিম্পোজিয়াম করে সিদ্ধান্তে এসেছে যে, এটা বন্ধ করতে হবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরো জানান, কিটোপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ বন্ধ করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ম্যালোক্সিক্যাম নামে একটি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম এবং এটা ব্যবহার করলে শকুন বা অন্যান্য পাখির ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না, জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হবে না। তাই মন্ত্রিসভা এটাও অনুমোদন করেছে। তিনি আরো বলেন, ম্যালোক্সিক্যাম ওষুধ দেশের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, ওষুধটি বাজারে পাওয়া যায়। সুতরাং কিটোপ্রোফেন তুলে নিলেও কোনো ক্ষতি হবে না।