admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মোঃ হারুন-অর-রশিদ বাবু ,ষ্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ব্যুরো অফিস রংপুরঃ সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাল গুদাম ও ইয়ার্ডের লেবাররা (কুলি) সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সৈয়দপুর প্লাজায় একটি হোটেলে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মালগুদাম ও ইয়ার্ডের লেবার মোঃ শাহিদ, মোঃ কছির উদ্দিন, মোঃ মরাদ, তৌহিদ লাড্ডান, মোঃ আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান ও মোঃ বাবলু প্রমূখ।সংবাদ সম্মেলনে যৌথ স্বাক্ষরকৃত লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাল গুদাম ও ওয়ার্ডে নতুন ও পুরাতন মিলে ৩৫/৪০ জন লেবার কর্মরত রয়েছে।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১০/১২ বছর স্টেশনের মাল গুদাম ও ইয়ার্ডে জনৈক ইয়াসিন আলী লেবার সর্দারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্টেশনে মাল গুদাম ও ওয়ার্ডের লেবার সর্দার হিসেবে ছিলেন ট্যান্ডেল ও মুন্সি মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনিও (আনোয়ার হোসেন) গত ৭/৮ মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকে মৌখিকভাবে লেবার সর্দারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন ট্যান্ডেল মোঃ কাইয়ুম। এ অবস্থায় তিনি গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্যান্ডেল ও মুন্সি মোঃ কাইয়ুম সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টার বরাবরে লেবার সর্দার হিসেবে স্থায়ীভাবে দায়িত্বের জন্য আবেদন করেন।
তাঁর আবেদনপত্রে,নীলফামারী-৪,(সৈয়দপুর কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আদেলুর রহমান আদেল এবং সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আখতার হোসেন বাদল সুপারিশ করেন। ট্যান্ডেল মোঃ কাইয়ুমের সর্দার হিসেবে দায়িত্বের জন্য করা আবেদনটি সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টার মোঃ শওকত আলী গ্রহনও করেন। কিন্তু তিনি আবেদনপত্রটি রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বরাবরে আজ পর্যন্ত পাঠাননি। উপরন্তু তিনি মৃত সর্দার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ আফতাব হোসেন ও মোঃ মোস্তাকের সঙ্গে যোগসাজশ করে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে লেবার সর্দার হিসেবে তাদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাঁদের করা আবেদনপত্রটি পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বরাবরে পাঠিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগে আরও বলা হয়, সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ওয়ার্ডে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিদিন রেলওয়ে ওয়াগন করে বিপুল সংখ্যক পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল আসছে। আর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শওকত আলী মালমালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাইরের লেবারদের দিয়ে এ সব আমদানিকৃত পাথর ওয়াগন থেকে খালাস করতে কাজ করাচ্ছেন।
তিনি আমদানিকারকদের কাছ থেকে মালামাল খালাসে বেশি পরিমানে অর্থ আদায় করলেও লেবারদের স্বল্প পরিমাণে মজুরী পরিশোধ করা হচ্ছে। এভাবে তিনি (স্টেশন মাস্টার) প্রতিদিন মোটা অংকের অর্থ পকেটস্থ করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এতে ট্যান্ডেল মোঃ কাইয়ুমসহ পুরাতন লেবাররা বাধা দিলে তাদের নামে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোসহ নানা রকম হুমকি-ধমকি দেন স্টেশন মাস্টার শওকত আলী। এ দিকে, স্টেশন মাল গুদাম ও ওয়ার্ডের লেবারদের বাদ দিয়ে বাইরের লেবারদের নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনের ইয়ার্ডে ওয়াগন থেকে মালামাল খালাস করার কারণে পুরাতন লেবাররা বিপাকে পড়েছেন। তারা বর্তমানে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারিতে কাজের অভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টার মোঃ শওকত আলী বলেন, ট্যান্ডেল মোঃ কাইয়ুম সর্দারের দায়িত্বের জন্য আমার বরাবরে আবেদন দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ করেনি। বাইরে লেবারদের নিয়ে ওয়াগণের মালামাল খালাস প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সময়ে পুরাতন লেবাররা প্রতি ওয়াগন পাথর খালাস করতে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। তারপরও আমি তাদের বলেছি উভয়ে মিলেমিশে কাজ করো।