admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদাকে হত্যা চেষ্টায় জড়িত মালি রবিউল। সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় রবিউল ইসলাম (৪৩) নামে বরখাস্ত হওয়া এক সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ইউএনও কার্যালয়ের মালি পদে নিযুক্ত থাকা অবস্থায় ৫০ হাজার টাকা চুরির দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। গ্রেফতার রবিউল পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে ইউএনওকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকালে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। এ নিয়ে র্যাবের কাছে একজন ও পুলিশের কাছে একজন এ হামলার দায় স্বীকার করলেন। এদিকে গ্রেফতার রবিউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, গত শুক্রবার সকালে রবিউলকে গ্রেফতার করা হয়। সে জেলার বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের খতিব উদ্দীনের ছেলে। সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মালি পদে নিযুক্ত ছিল। ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার পর থেকে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিউল ইসলাম নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সরকারি কর্মচারীকে আমরা গ্রেফতার করি। গ্রেফতার রবিউল প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে নিজের দায় স্বীকার করেছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছি।
এছাড়া তার বক্তব্য ও জব্দ করা আলামত সিসিটিভ ফুটেজের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। আমরা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে তার রিমান্ড আবেদন করবো। গত ৪ সেপ্টেম্বর আসাদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবলীগ নেতা (বহিষ্কার) ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় র্যাবের কাছে দায় স্বীকার করেন। আসাদুল সাত দিন ধরে রিমান্ডে ছিল। গতকাল আসাদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে দিনাজপুরে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচীন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি ওসি ইমাম জাফরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রবিউল ৬ দিনের রিমান্ডে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার রবিউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল বিকেলে রবিউলকে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে হাজির করে মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা। পরে শুনানি শেষে বিচারক রবিউলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন বিকেল পৌনে ৬টায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, রবিউল ইউএনওর বাসায় মালি হিসেবে কাজ করেন। কাটা হয়েছে মাথার সেলাই এদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথার সেলাইও কাটা হয়েছে। এর আগে তার মুখের সেলাই খোলা হয়। মেডিকেল বোর্ড গতকাল শনিবার সকালে ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনা শেষে তার মাথার সেলাই কাটার সিদ্ধান্ত দেয়। বোর্ড জানিয়েছে, ওয়াহিদার শরীরের অবশ হওয়া ডান অংশের উন্নতি হয়েছে। তিনি অবশ হওয়া ডান হাত নিজে নিজে নাড়াতে পারছেন।
তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান জাহেদ হোসেন জানিয়েছেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানম এখন অনেকটাই শঙ্কামুক্ত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে গতকাল সকালে ওয়াহিদা খানমের পরিস্থিতি সম্পর্কে ডাক্তার জাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তার অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। ডান হাতের কনুই পর্যন্ত নাড়াতে পারছেন সলিড (ঘন) খাবার খেতে পারছেন। তবে কেবিনে নেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা। ভেতরে ঢুকে ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৬০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুরে ও পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমান তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।