admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২০ ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রিয় পাঠক আজ আমার আব্বার মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো গত বছর ১২ জুন আমার আব্বা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সবাই আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ্ পাক যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমিন। আমার আব্বার সম্পর্কে কিছু কথা না বললে পারছিনা সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম হয়ে ছিলো তার পিতা ঈসা চৌধুরী স্বাধীনতার পূর্বে ভারত ও পূর্ব পাকিস্থান বর্তমান বাংলাদেশ তার জমিদারী ষ্টেট ছিলো ভারতের রোল কোরসুন্ডা ও ঠাকুরগাঁও’য়ে আমার দাদা মরহুম ঈসা চৌধুরী, তিনি মুন্সি জমিদার নামে পরিচিত ছিলেন। তার জমিদারী ষ্টেট মুন্সি জমিদার নামে পরিচিত ছিলো।
তার ভারত ও পূর্ব পাকিস্থান তথা বর্তমান বাংলাদেশ জমিদারী ষ্টেটের সম্পত্তি ছিলো। আমার দাদা ব্রিটিশ আমলে ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডভোকেসী সম্পূর্ণ করেন জানাযায় তিনি ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র ছিলেন। ভারত ও পূর্ব পাকিস্থানে জমিদারী ষ্টেট থাকায় দুই দেশেই যাতায়াত করতেন। আমার দাদার নাম অনুসারে ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণ কেন্দ্রে জমিদারপাড়া নামে পরিচিত রয়েছে। আমার দাদার মৃত্যুর পর আমার আব্বা ও চাচা মরহুম চৌধুরী আলী হায়দার (বেগু চৌধুরী ) আব্বা মরহুম চৌধুরী সেলিম (খোকা চৌধুরী) ঠাকুরগাঁয়ের জমিদারপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি ঘটলে জমিদারী প্রথারও সমাপ্তি হয় কিন্তু দাদার মানে আমার আব্বার বাবার জমিদারী সম্পত্তি তাদের হাতেই থাকে। আমার বাবা ও চাচা তাদের বাবার রেখে যাওয়া জমিদারী সম্পত্তির অনেক অংশ আমার চাচা নষ্ট করে দেন। আমার আব্বা ছিলেন সহজ সরল তাই ঠাকুরগাঁয়ের অনেক সুবিধাবাদি মানুষ সে সুযোগ নেয় ।
কিছু চাটুকার তাদের পিছে পিছে ঘুড়ে অনেক সম্পত্তি হাতিয়ে নেয় আমি তাদের নাম প্রকাশ করছিনা । তবে যেটুকু না বললেই না শুধু সেটুকুই শেয়ার করছি যারা ঠাকুরগাঁয়ে আদিবাসিন্দা তারা ভালো করেই জানেন বিষয়টি । ঠাকুরগাঁওয়ে অনেকে নামের সাথে চৌধুরী যুক্ত করেছেন তারা কোন এলাকার চৌধুরী বা তাদের মানুষের জন্য কি করেছেন এমন ইতিহাস কারও জানা আছে বলে আমার বোধগম্য নেই। আমি আমার আব্বার ও চাচার দান কৃত কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরার চেষ্টা করছি। ঠাকুরগাঁয়ের পুরোনো মসজিদ জমিদারপাড়ার মসজিদ আমার দাদার হাতে করা।
আব্বার দান কৃত কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ
(১) ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুলে বড়মাঠ যেটা ফুটবল খেলার মাঠ নামে পরিচিত সেই বড়মাঠ আমার বাবা চাচার দান করা।
(২) বাসষ্ট্যান্ড এর পূর্বে পুলিশ লাইনের কাছে অবস্থিত আর কে ষ্টেট হাই স্কুলের জমি আমার আব্বার দান করা।
(৩) নিশ্চিন্তপুর কালিবাড়ি পাবলিক লাইব্রেরী থেকে শুরু করে বিজিবি ক্যাম্পের পুরো পিছনটা আমার আব্বার দান করা।
(৪) মুন্সিরহাট এটা আমার দাদা দান করে গিয়ে ছিলেন তাই দাদার নামেই পরিচিতি ঘটেছে।
(৫) ঠাকুরগাঁও গড়েয়া কালীমেলা এটাও আমার আব্বাদের দান করা ।
(৬) ঠাকুরগাঁও জেলার প্রাণ কেন্দ্রে সি এম আইয়ুব উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় স্কুলের জমি আমার বাবার দান করা।
এমন আরও অনেক কিছু করে গেছেন যা আমি লিখে শেষ করতে পারবোনা। বর্তমান প্রজন্ম এই সব ইতিহাস জানে না। কিন্তু যে সকল প্রতিষ্ঠানকে এই জমি দান করে গেছে তারাও তাদের স্মরণ করেনা বা কৃতজ্ঞতা বোধ নেই এটা দুঃখ জনক। তারা আমাদের জন্য কিছু ছেড়ে যাননি তাদের নেশাই ছিলো দানের। আমরা ভাইরা কোনদিন আব্বার উপর কথা বলিনি। চোখের সামনে দান করতে দেখেছি ছোট বেলায়। ঠাকুরগাঁও’য়ে ব্রিটিশ খতিয়ান দেখলে জানতে পারবেন মুন্সি জমিদারের ষ্টেট সম্পর্কে। আমরা কিছু আশা করিনা আব্বার শুধু চাই তাদের ইতিহাস টুকু সবাই জানুক ।
পুরোনা মুরুব্বীরা সবাই জানেন শুধু নতুন প্রজন্মের যারা তারা হয়ত অনেকেই জানেনা। তাদের মহত্বের কাছে কিছু সুবিধাবাদি মানুষ সুযোগ নিয়েছে। যাই হোক সকলের কাছে আমার অনুরোধ আমার আব্বার জন্য আল্লাহ্ পাকের দরবারে দোয়া করবেন। তিনি যেন জান্নাতবাসি হোন।
সম্পাদক প্রকাশক
মুক্ত কলম
সিঙ্গাপুর বক্স অফিস