admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ৬৫ শতাংশ ফার্মাসি ! একটি ফার্মাসি চালু করতে ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে নিতে হয় ড্রাগ লাইসেন্স। পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হয় একজন সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট। কিন্তু গাজীপুরে বর্তমানে চালু থাকা ৬৫ শতাংশ ফার্মাসিরই নেই কোনো ড্রাগ লাইসেন্স। বেশিরভাগ ওষুধের দোকানেই নেই কোনো সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট। এতে একদিকে যেমন অধিদপ্তরের নজরদারির বাইরে রয়েছে এসব ফার্মাসি, তেমনি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র না বুঝে রোগীদের ভুল দেওয়া বা ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ওষুধ দেওয়ায় বাড়ছে জেলার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
গাজীপুর ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে পাঁচটি উপজেলা রয়েছে। মহানগরসহ এসব উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা, হাট-বাজার ও অলি-গলিতে ফার্মাসি রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নিয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪৩৭টি। যা মোট ফার্মাসির তুলনায় মাত্র ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাকি ৬৫ শতাংশ ফার্মাসিই চলছে লাইসেন্স ছাড়া।
আরো জানা যায়, ফার্মাসিতে বাধ্যতামূলক একজন সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট রাখার নিয়ম থাকলেও গাজীপুরের বেশিরভাগ ওষুধ দোকানেই তা নেই। ফলে অল্প শিক্ষিত লোকবল দিয়েই চলছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে অনেক সময়ই চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র না বুঝে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে ভুল ওষুধ। এ ছাড়া এসব ফার্মাসির বিরুদ্ধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন রোগের স্পর্শকাতর ওষুধ সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। ভুল ওষুধ সেবনের ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সম্প্রতি গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিভাগ ফার্মাসিতেই ড্রাগ লাইসেন্স বা সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট কোনোটিই নেই। অথচ প্রতিটি দোকানেই রোগীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ওষুধ। অনেক সময় দোকানের মালিকই চিকিৎসক হয়ে রোগের বিবরণ শুনে মৌখিকভাবে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। শুধু ওষুধ বিক্রিই নয়, কখনো কখনো এসব ফার্মাসিতে করা হয় ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ওষুধ সেবনের ফলে রোগীদের মধ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তখন অনুমোদনহীন বা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ফার্মাসিগুলোকে ১-২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবেই নিজেদের দায় সারছে ঔষধ প্রশাসন। ফলে জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে অনুমোদনহীন ফার্মাসি। যেসব ফার্মাসি অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করছে সেগুলোর ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঔষধ প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এ অবস্থা। নজরদারি বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হুসনে আজীম কায়সার জিন্না বলেন, অনুমোদন ছাড়াই অলিতে-গলিতে গড়ে উঠছে ফার্মাসি। আর সেগুলোতে কোনো ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ওষুধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার জেলা ড্রাগ সুপারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো এর ফল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরেই এমন কিছু গ্রাম্য চিকিৎসক আছেন, যারা সামান্য জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শেই রোগীরা ফার্মাসিতে গিয়ে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক কেনেন। ফার্মাসিগুলোও লাভের আশায় সেগুলো অবাধে বিক্রি করে।
তিনি আরো বলেন, এভাবে সাধারণ অসুস্থতায়ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। কারণ এক সময় গিয়ে তাদের শরীরে আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। তখন সামান্য অসুখেই বড় মৃত্যুঝুঁকিতে পড়বেন তারা। তাই অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করার বিষয়ে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। নজরদারি বাড়ানো উচিত ঔষুধ প্রশাসনের। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি জরুরি, সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা। গাজীপুর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক মরুময় সরকার বলেন, অনুমোদনহীন ফার্মাসিগুলোর বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।