অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ,ঢাকা || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬ ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা: দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধারা বার্ধক্যে এসে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও প্রাপ্য সম্মান ও অগ্রাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন – এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অর্থের বিনিময়ে রোগী দেখলেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার বা ফি-ছাড়ের ব্যবস্থা করেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের, ঠিক সাধারণ রোগীদের মতোই।
সম্প্রতি দিনাজপুরের একটি জাতীয়ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রায় ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিকেল ৫টায় সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা শুরু হলেও চিকিৎসকের চেম্বারে তাঁর ডাক পড়ে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। দীর্ঘ এই অপেক্ষা তাঁকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে – যে মানুষগুলো দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁদের বার্ধক্য কি এমনই হওয়ার কথা ছিল?
সচেতন মহলের মতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান শুধু আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা বা জাতীয় দিবসের বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বার, ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং গণপরিবহনসহ সব সেবাক্ষেত্রে তাঁদের জন্য অগ্রাধিকারমূলক সেবা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে বেসরকারি চেম্বারে চিকিৎসা প্রদানকারী সরকারি চিকিৎসকদেরও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ বিবেচনা, ফি-ছাড় বা ফি মওকুফের মতো মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের ভাষায়, জাতির সূর্যসন্তানদের প্রতি বাস্তব সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।