ডাঃ নুরল হক,বিরামপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ মে, ২০২৬ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার রূপরামপুর গ্রামের হুমায়ুন কবির খোকন ব্ল্যাক রাইচ ধান চাষে সফলতা অর্জনে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্ল্যাক রাইচ ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরে জমিনে মাঠে দেখা যায়, সোনালী ধানের মাঠে কালো ধানের বা ব্ল্যাক রাইচ ধানের ক্ষেত বাতাসে দোল খাচ্ছে। ক্ষেত ভরা কালো ধানের শীষ। ক্ষেত ভরা ধান দেখে অনেক কৃষক এই ধান আবাদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন ।
সৌখিন কৃষক হুমায়ুন কবীর খোকন নতুন নতুন জাতের ধান আবাদ করাই তার নেশা। তিনি জানান, প্রখ্যাত সাংবাদিক শাইখ সিরাজ সাহেবের ইউটিউবে ব্ল্যাক রাইচ ধানের প্রতিবেদন দেখে ধানের চাষ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি অনলাইনে সিলেট থেকে ৫ কেজি ধানের বীজ ৪ হাজার ৮ শত টাকায় ক্রয় করেন। তিনি শাইখ সিরাজের প্রতিবেদনে জানতে পারেন এই ধান পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি শস্য। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ , হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, ক্যান্সার রোগের প্রতিষেধক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ।
হুমায়ুন কবির খোকন একজন সৌখিন চাষী । ব্ল্যাক রাইচ ধান চাষের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগ ও কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায়ের পরামর্শে দেশী জাতের ধানের পাশাপাশি ভিন দেশি উচ্চ ফলনশীল ধান রাইচ ব্ল্যাক (কালো ধান )জাতের ৪০ শতক জমিতে রোপন করেন। ভিনদেশী জাতের এসব ধানের ফলন প্রচলিত ধানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। চাষাবাদে শ্রম ও ব্যয় তুলনামূলক কম। চাষের খরচ ফলনের সময়কাল আর পরিশ্রম দেশী জাতের ধানের চাষের মতোই। ১৪০ দিন বা ১৪৫ দিনের মধ্যে এই ধান ঘরে তোলা যায় ।
তিনি আরো জানান এই ধানে বালাই নাশক ঔষধ তেমন একটা প্রয়োগ করতে হয় না কারণ পোকার আক্রমণ কম এবং ঝড়-বৃষ্টি সহনশীল। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে বলে তিনি আশা পোষণ করেন। প্রতি কেজি চাল বর্তমান বাজারে ৩ শত থেকে ৪ শত টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি ধান থেকে বীজ সংরক্ষণ করবেন এবং কোন কৃষক যদি এই ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন তার কাছে বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন ।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় জানান, সৌখিন চাষী হিসেবে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ধান আবাদ করতে পারেন। প্রথম বারের মত বিরামপুরে ব্ল্যাক রাইস ধানের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। ভিনদেশী ধানের চাষ লাভজনক এবং কৃষক বান্ধব হলে তা সম্প্রসানের জন্য কাজ করবে কৃষি বিভাগ।