মোক্তারুজ্জামান মোক্তার,পার্বতীপুর,দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর জেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ বিগত সরকারের আমলে শুরু হলেও আজও শেষ হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়কে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত রাস্তা চললে দেখা যায় কোথাও কোথাও রাস্তা ধুলা-বালি, খোয়া ও খানাখন্দে ভরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে এই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু কাজের ধীরগতি ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে। আজ ২ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা গেছে ল্যাম্প হাসপাতাল বাজার ও বানিয়াপাড়া মোড় বাজার, সামনের নতুন ব্রিজ ও দ্বিতীয় ব্রিজের৷ দুই পাশে সংযোগ সড়ক সম্পুরক না হওয়ায়,
ভবের বাজার যশাই মোড়, বেলতলী বাজারে রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত। এছাড়াও হাজীর মোড় চিরিরবন্দর কারেন্টের হাট টেক্সটাইলের মোড়, বেকীপুল,কৃষাণ বাজার ও দিনাজপুর মহারাজার মোড় পর্যন্ত ধুলার কারণে দোকানপাটে ব্যবসা করা কঠিন। শহরে ঢোকার মুখেই রাস্তা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতাল থেকে গুরুতর রোগীদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে ৪০ মিনিটের রাস্তা এখন ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট লাগছে।
ঝাঁকুনিতে অসুস্থ রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স চালকরা জানান, গর্তের কারণে তারা জোরে গাড়ি চালাতে পারেন না। অটো ও ভ্যান চালকরা একাধিক জন জানান, দিনে ২ বার গাড়ির চাকা লিক হচ্ছে, স্প্রিং ভেঙে যাচ্ছে। বাস-ট্রাক মালিক সমিতি জানায়, এই রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের হিসাব গুনতে হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বেলতলী বাজারের আব্দুর রহমান বলেন,ধুলায় আমাদের জীবন শেষ।
বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। আমরা চাই দ্রুত এই কাজ শেষ হোক। এ বিষয়ে দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মাছুদ মাহমুদ ছোটন কে একাধিক 01730782746 এই নান্বারে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ওনার সহকারী ইন্জিনিয়ার রেজাউল করিম জানান, এই রাস্তাটি কাজ কবে সম্পন্ন হবে তা আমি বলতে পারবো না। এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার মানিক মিয়া বলেন, এ রাস্তাটি আমার নিয়ন্ত্রণে নয়, এটা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের কাজ বলে জানান।
তবে একটি সুত্র থেকে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময় টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সড়কটি অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত রাস্তাটি অসমাপ্ত কাজ পার্বতীপুর থেকে মহারাজা মোড় পর্যন্ত সম্পন্ন করে জনভোগান্তি দূর করার আহবান জানান।