admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সংগঠনের নেতারা। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন সংগঠনটির সভাপতি হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়নি। বরং এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। এর সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন ছাড়াও আরো অনেকে জড়িত থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, দুর্বৃত্তরা যদি চুরির উদ্দেশ্যেই ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করতো তাহলে সেখান থেকে কোনো জিনিস চুরি বা খোয়া যেতো। কিন্তু ইউএনও’র বাসা থেকে কোনো কিছুই চুরি বা খোয়া যায়নি। কোনো কোনো মহল পরিকল্পিত এ হামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এটিকে চুরি ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। হেলালুদ্দীন আহমেদ আরো বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানম একজন ‘সৎ ও নির্ভীক কমকর্তা’ ছিলেন। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ইউএনও’র কাছে নিয়ম বর্হিভূত তদবিরে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসার বশে এ হামলা চালাতে পারে। সরকার বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।
উএনও ওয়াহিদা খানম- এ সময় তিনি সারাদেশে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগের দাবি জানান। গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ওয়াহিদ খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের সরকারি বাসভবনে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসভবনে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওয়াহিদা ও তার বাবাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। পরে তাদের সেখানে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওয়াহিদা ও তার বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়াহিদা খানমকে নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। তার বাবা ওমর আলী রমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঘোড়াঘাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন আহত ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৩ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। চুরিতে বাধা দেওয়ায় ইউএনও ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে তারা।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন- ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আসাদুল হক (৩৫), একই এলাকার মৃত ফরাজ উদ্দিনের ছেলে নবীরুল ইসলাম ও উপজেলার চক বাবুনিয়া বিশ্বনাথপুরের খোকা চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৮)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসাদুলকে হাকিমপুর থানার বাংলা হিলি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নবীরুল ও সান্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজন ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করেন।