admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২:২২ অপরাহ্ণ
রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীকে ধরার চেষ্টাও চলছে। সেই সাথে ধর্ষণের ঘটনাস্থল হিসেবে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের প্রান্তে সড়কের পাশের জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা গুলশান জোনের ডিসি সুদীপ চক্রবর্তী। আজ ৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এমন তথ্য জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ধর্ষণের শিকার ওই ঢাবি ছাত্রীর সঙ্গে রোববার থেকে একাধিকবার ওসি, এসি ক্যান্টনমেন্টে কথা বলেছেন উল্লেখ করে গুলশান জোনের ডিসি বলেন, ‘ভিকটিমের কথা অনুযায়ী অভিযুক্ত একজন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি আসামী তার পূর্ব পরিচিত নয়, তবে তাকে দেখলে চিনতে পারবে বলে আমাদের জানিয়েছেন তিনি।’ ভিকটিমের বাবা ইতোমধ্যে একজনের কথা উল্লেখ করেই মামলা করেছেন বলেও তিনি জানান। পুলিশ সার্বিক তদন্তের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ভিকটিম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে আছে। আমরা অপরাধীকে খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নিপীড়নের শিকার ওই ছাত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। দু’একদিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
উত্তাল ক্যাম্পাস এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে আজও উত্তাল রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকালেই তীব্র শীতের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। স্লোগানে-স্লোগানে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও এর বিচার দাবি করছেন তারা। শত শত শিক্ষার্থী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে শুভ সংঘের ব্যানারে প্রতিবাদ জানানো হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিলে মুখে কালো পতাকা বেঁধে পদযাত্রা সহকারে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। সকালে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যে গিয়ে দেখা যায়, ভাস্কর্যগুলোর মাথায় কালো কাপড় বেঁধে রাখা হয়েছে। দেশে অনাচার-অবিচার বৃদ্ধির প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই ভাস্কর্যগুলোর মাথায় কালো কাপড় বেঁধে দেয়া হয়েছে বলে জানান উপস্থিত কয়েকজন। এদিকে ছাত্রলীগের আয়োজনেও আজ প্রতিবাদী চিত্রাঙ্গন, মানববন্ধন, ছাত্র শিক্ষক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পৃথকভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গতকাল থেকেই অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি সোচ্চার হয়ে উঠেছে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও। তদন্ত ডিবিতে হস্তান্তর : এ দিকে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর (উত্তর বিভাগ) গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহান হক গতকাল ৬ জানুয়ারি, সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ডিবি পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য ক্যাম্পাস থেকে কুর্মিটোলায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাবি-টঙ্গী রুটে চলাচলকারী ‘ক্ষণিকা’ নামের দোতলা বাসে উঠেছিলেন ওই ঢাবি ছাত্রী। পরে বাস থেকে কুর্মিটোলা এলাকায় নামার পর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফেরার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে ঘটনা জানান। এরপর সহপাঠীরা তাকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন এবং তাকে গভীর রাতে ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি ক্যাম্পাসের একটি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।