সোহরাব আলী,তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলার সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে । প্রকাশ যে
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে কষে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ঘুষ নেয়া দেবীগঞ্জের সেই পিআইও প্রত্যাহার
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনটি হাতে আসলে প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) বাবুল চন্দ্র রায়কে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিপূর্বক সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে) যোগদান করতে বলা হয়েছে।
অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্নে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, ‘পিআইওর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তাঁকে বদলির জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা এখনও তাঁর বর্তমান কর্মস্থলেই রয়েছেন। আগামীকাল বুধবার (২৪ জুন) মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম সরেজমিনে দেবীগঞ্জে এসে পুরো বিষয়টি তদন্ত করবেন।
এর আগে,সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের সঙ্গে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত দরদাম করছেন পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি নিজ হাতে ক্যালকুলেটর চেপে মেম্বারদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা বুঝে নিচ্ছেন।
ভিডিওতে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে এক ইউপি সদস্যের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘মেম্বার সাহেব আপনার ৮ টন গম না, ৪০ করে?’ মেম্বার উত্তর দেন, ‘না স্যার ৩২ হাজার করে। তখন পিআইও ক্যালকুলেটর চেপে হিসাব কষে বলেন,তাহলে ৩২ ইন্টু ৮, ২ লাখ ৫৬ হাজার। ইন্টু ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার টাকা আসে। টাকা কমানোর আকুতি জানিয়ে ওই মেম্বার বলেন,এতো স্যার! একটু কম করে নেন, কাজের তো লাভও হয়নি। জবাবে পিআইও হাসতে হাসতে বলেন, মেম্বারদের কোনদিন লাভ হয় না। আমি যে এতদিন পিআইও করতেছি, আমাকে কোন মেম্বার বলে নাই আমার লাভ হইছে।
একই ভিডিওতে অন্য এক মেম্বারের ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার টিআর প্রকল্পের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে ২৪ হাজার টাকা এবং আরেক মেম্বারের ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা কমিশন দাবি করতে দেখা যায় পিআইও-কে। একপর্যায়ে এক মেম্বার টাকা গুনে দিলে পিআইও-কে হাসিমুখে বলতে শোনা যায়,পিআইও অফিসটাতো আপনাদেরই।