আব্দুল কাদের জিলানী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার, গণবিজ্ঞপ্তি কিংবা মাইকিং ছাড়াই ৯৫টি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা মোট ৯৫টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি মেহগনি ও ৬৪টি ইউক্যালিপটাস গাছ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা জনসাধারণকে অবহিত না করেই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো ধরনের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, মাইকিং বা উন্মুক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় গাছ বিক্রির পুরো কার্যক্রম নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যথাযথ নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি গোপন রাখার কোনো কারণ নেই। তারা পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রুহিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, “বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জনগণের সম্পদ, তাই এ ধরনের কার্যক্রমে উন্মুক্ততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, “বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মোট ৯৫টি গাছ ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় এ মূল্য সন্তোষজনক বা মনঃপূত নয়। বাজারমূল্যের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমল রায় বলেন, “বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির কার্যক্রম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গাছ বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আক্তার বলেন, “সরকারি বিধি ও প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান, প্রয়োজনীয় গণবিজ্ঞপ্তি এবং বন বিভাগের মাধ্যমে গাছের নম্বরিং সম্পন্ন না করে কোনোভাবেই গাছ বিক্রি করা বৈধ নয়। এসব প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে গাছ বিক্রি করা হলে তা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হবে এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।