মাদক সেবন ও অনৈতিক সম্পর্কে বাধা দেয়ার কারণে বাবা-মাকে হত্যা করা সেই ঐশীর কথা মনে আছে? যে নেশাগ্রস্থ হয়ে বাবা পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও মা স্বপ্না রহমানকে নিজ হাতে হত্যা করেছিল। সেই ঐশী এখন অনেকটাই সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার উম্মে সালমা।জেলার উম্মে সালমা বলেন, অন্য সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেই জীবন কাটছে ঐশীর। কয়েদিদের সঙ্গে খেয়ে, ঘুমিয়ে আর গল্পগুজব করেই সময় কাটছে তার। তবে দিনের অধিকাংশ সময় অনুশোচনার মধ্যে থাকেন ঐশী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ঐশীকে দেখতে তার আত্মীয়স্বজন কিংবা অন্যকেউ কখনো আসেনি। তবে তার এক চাচা প্রতিমাসেই একবার করে খোঁজখবর নিয়ে যান। এ সময় সাথে করে তার জন্য জামা-কাপড়, খাবার ও টাকা নিয়ে আসেন। একমাত্র আপনজন চাচাকে না দেখতে পেলে অস্থির হয়ে পড়েন ঐশী।
এর আগে ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেদিনই রমনা থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন ঐশী। এরপর ২৪ আগস্ট খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন ঐশী। বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ঐশীকে ২০১৫ সালে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ এ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকেই কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছে ঐশী। জানা যায়, মাদকের ভয়াল গ্রাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া ঐশী রহমান। পড়ালেখা বাদ দিয়ে মাদক সেবন, ডিজে পার্টি, আড্ডা হয়ে উঠেছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। অধিক নেশায় আচ্ছন্ন থাকার কারণে একসময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সে।